সর্বশেষ :
গণতন্ত্র হত্যাকারী হাসিনাকে বিতাড়িত করেছে দেশের মানুষ: রাশেদা বেগম হিরা প্রধান শিক্ষকের কুৎসিত রূপ: চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ইউপি সদস্য খুন, এলাকায় উত্তেজনা বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল নবদম্পতির স্বপ্ন রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য সংকট, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার হাসনাত আবদুল্লাহর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পিকার-ইসির

বিদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা মালয়েশিয়ায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪০ বার
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের কোটা সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়া এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, কোটা অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক কার্যক্রম একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এতে দীর্ঘদিনের কাগজপত্র নির্ভর জটিলতা কমবে এবং প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (FWCMS), যা মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আবেদনকারীরা এখন থেকে সরাসরি নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং আবেদন সংক্রান্ত সব ধাপ অনলাইনে অনুসরণ করতে পারবেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৫৫ সালের কর্মসংস্থান আইনের ধারা ৬০কে অনুসারে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রাথমিক অনুমোদন, কোটা আবেদন, সাক্ষাৎকার নির্ধারণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম এই সিস্টেমের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর আলাদা করে একাধিক দপ্তরে যেতে হবে না।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করার জন্য একটি বিস্তারিত ফ্লো-চার্ট ও নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আবেদনকারীরা ধাপে ধাপে কীভাবে আবেদন করতে হবে, কী কী নথি প্রয়োজন এবং কোন শর্ত পূরণ করতে হবে—তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে নতুন ব্যবস্থায় কিছু কঠোর সীমাবদ্ধতাও আরোপ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত কোটা সীমার মধ্যে থেকেই বিদেশি কর্মী নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট কিছু খাত এবং সাব-সেক্টরেই এই কোটা প্রযোজ্য থাকবে।

যেসব খাতে কোটা পূর্ণ হয়ে যাবে, সেসব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন গ্রহণ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগেই তাদের প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার অংশ। বিশেষ করে নির্মাণ, কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় এই ডিজিটাল সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শ্রমনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষাধিক শ্রমিক দেশটিতে কাজ করেন। নতুন এই ব্যবস্থায় তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আবেদন করার আগে সব ধরনের শর্ত, যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। কারণ ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ নথির কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে।

সরকার আরও জানিয়েছে, নতুন ডিজিটাল সিস্টেমে প্রতিটি আবেদন ট্র্যাক করা যাবে, ফলে দুর্নীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময়ও কমে আসবে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে আরও সংগঠিত করবে। তবে প্রথম দিকে কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং ব্যবহারকারীদের অভিযোজন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশসহ যেসব দেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যায়, তাদের জন্যও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন হওয়ায় এজেন্ট নির্ভরতা কমতে পারে এবং প্রক্রিয়াটি আরও সরাসরি হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে মালয়েশিয়ার এই নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ দেশটির শ্রম ব্যবস্থাপনায় একটি বড় সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের পুরো কাঠামোকেই নতুন রূপ দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত