হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধে ১০ জাহাজ ফেরত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১০টি জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।

সামরিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নৌ অবরোধের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করা কোনো জাহাজই নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ইরানের উপকূলীয় জলসীমার কাছাকাছি যেসব জাহাজ চলাচল করছিল, তাদের আটকানো বা পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানভিত্তিক বাণিজ্য বা ইরানের উপকূলে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ, যারা আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করছে, তাদের জন্য প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজই অবরোধ ভেঙে পার হতে পারেনি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওই অঞ্চলে সামুদ্রিক চলাচলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। লক্ষ্য হিসেবে বলা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে ইরান যে ট্রানজিট ফি বা অর্থনৈতিক সুবিধা পেত, তা বন্ধ করা এবং দেশটির তেল রপ্তানিতে চাপ সৃষ্টি করা।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই রুট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি বিশ্ববাজারে সরবরাহ হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে একে ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সামরিক সূত্র জানায়, চলমান পরিস্থিতিতে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ বন্দর আব্বাস থেকে বের হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জাহাজটিকে তার গন্তব্য পরিবর্তনে বাধ্য করে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি কেবল সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অনেক কোম্পানি বিকল্প রুট ব্যবহারের বিষয়েও চিন্তাভাবনা শুরু করেছে, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো যায়।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারির মধ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর নজর রাখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত