অবশেষে আশার আলো, এমপিওভুক্ত হচ্ছে ১০৯০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৫ বার

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সারাদেশের ১০৯০টি অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারিভাবে এই তালিকা ঘোষণা করা হবে এবং এরপর থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা পাবেন এমপিওভুক্তির সুবিধা।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ এ বিষয়ে জানান, বর্তমানে দেশে স্বীকৃত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা ১৫১৯টি। এর মধ্যে ১৩২৭টি মাদ্রাসা চলতি বছর এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করে। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর ১০৯০টি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। যেসব মাদ্রাসা নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে—তাৎপর্যপূর্ণভাবে ২৩৭টি প্রতিষ্ঠান—তারা এই তালিকায় স্থান পায়নি।

মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও আবেদন-নিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তটিকে সময়োচিত এবং যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন শিক্ষাপ্রেমীরা। এমপিওভুক্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতন-ভাতা, উৎসবভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার পাবেন, যা শিক্ষা খাতে তাদের দীর্ঘ সময়ের অবমূল্যায়ন ও আর্থিক কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৬ জুন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ৮ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। পুরো আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হয়, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। একাধিক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে নির্ধারিত সময়সীমা ও মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, এই এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন, পাঠদান, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০২৫’-এর আলোকে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য। এতে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পাঠদানের মান, শিক্ষক সংখ্যা, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ধারাবাহিকতার ওপর।

শিক্ষাবিদরা মনে করেন, ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর এমপিওভুক্তি দেশের প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এতে শিক্ষকদের কর্মনিবেদন যেমন বাড়বে, তেমনি শিক্ষার্থীরাও পাবে মানসম্মত পাঠদানের পরিবেশ। তবে একইসঙ্গে এটাও উল্লেখ করা হচ্ছে যে, যেসব মাদ্রাসা এই ধাপে বাদ পড়েছে, তাদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যেই নতুনভাবে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকারি বেতন-ভাতার আওতায় আসতে পারবেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে থাকা মাদ্রাসাগুলোর আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।

এই সিদ্ধান্ত শুধু মাদ্রাসা শিক্ষকদের মুখে হাসি ফোটাবে না, বরং গোটা শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলেই মত বিশ্লেষকদের। সরকার কর্তৃক ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি এমন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষানীতিকে আরও সংহত করবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত