প্রকাশ: ২৯ শে জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়ার নিজ বাড়িতে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জওহরলাল বসাক তুলশী (৭৭)-এর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় জেলায় প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। শহরের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল যৌথভাবে শহরের আবদুল হামিদ সড়কে মানববন্ধন করে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক যিনি সারাজীবন মানুষ গড়ার কাজ করেছেন, তাঁর ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এদিকে মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ জানিয়েছে, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ঢাকা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তিনি হামলায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে পাবনায় নিয়ে আসা হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা স্থানীয় লোকজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পর থেকেই শহরে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সোমবার পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। একই দিনে শহরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন হয়। মঙ্গলবারের মানববন্ধনে বিএনপির জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক নুর মাসুম, যুবদল আহ্বায়ক হিমেল রানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়ামিন খানসহ বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা জওহরলাল বসাকের ওপর হামলাকে ‘ন্যক্কারজনক ও লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করেন। নুর মোহাম্মদ মাসুম বলেন, “স্যার একজন সাদামাটা, হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। তাঁর ওপর এই বর্বরোচিত হামলা আমাদের লজ্জিত করেছে। ছাত্র হিসেবে আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা চাই হামলাকারীরা দ্রুত ধরা পড়ুক এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তৎপর হয়েছে। ডিবি পুলিশ ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই বাকি আসামিদেরও আইনের আওতায় আনা যাবে।”
প্রসঙ্গত, জওহরলাল বসাক তুলশী পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রধান এবং একজন সম্মানিত শিক্ষক। রোববার বিকেলে দুই ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তিনি নিজেই থানায় মামলা করেন। এই নৃশংস হামলা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।