সর্বশেষ :
ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নিয়ে দুদুর বিস্ফোরক ভাষ্য ডায়াবেটিস নেই তবুও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি? যুক্তরাজ্যে মিলল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল কপি পেঁয়াজ উৎপাদনে রেকর্ড, তবুও কেন আমদানির চাপে কৃষক? সিলেটের সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার ৮৮ বছর পর নকআউটে জয়: ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিমান অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা: সাংবাদিক দেখেই দৌড় চিকিৎসকের বিশ্বমঞ্চে চুয়েট শিক্ষার্থীদের সাফল্য: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল ৪০ কোটি টাকায় ডমিনেজ স্টিল কিনছে আকিজ রিসোর্সেস

ইউপি নির্বাচন: ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
ইউপি নির্বাচন: ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ

প্রকাশ: ০৩ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হতে যাচ্ছে। নাগরিক প্রত্যাশা ও আইনি বাধ্যবাধকতার নিরিখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন অক্টোবর মাসকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তোড়জোড় চালাচ্ছে ইসি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে। এই নির্বাচনের প্রাক্কালে নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে ইসি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেসব নাগরিকের বয়স ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আঠারো বছর পূর্ণ হবে, তারা আসন্ন এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

ভোটদান একটি নাগরিক অধিকার এবং এই অধিকার চর্চার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদের যে সুযোগ উন্মুক্ত করেছে, তা এক অনন্য উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছে এবং কমিশন সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদের বিশাল কাঠামোর দিকে তাকালে এর গুরুত্ব সহজে অনুধাবন করা যায়। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা চার হাজার ৫৮০টি। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে তিন হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে পথচলা সব সময় মসৃণ ছিল না। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা, মামলা ও আইনি মারপ্যাঁচে আটকে ছিল ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। বর্তমানে এসব আইনি বাধা কাটিয়ে একটি স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির প্রত্যাশা করছে স্থানীয় প্রশাসন। চলতি বছর তিন হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে, যা স্থানীয় নির্বাচনের ইতিহাসে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ইঙ্গিত দেয়।

ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও একইভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতির অধীনে রয়েছে। দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টিই বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে অবশিষ্ট ১০টি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত রয়েছে, যা দ্রুত নিরসনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদের চিত্রটি আরও ব্যাপক। বর্তমানে পাঁচটি নতুন উপজেলাসহ দেশে মোট ৫০০টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে। একটি বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বর্তমানে কোনো উপজেলাতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই, যার ফলে ৫০০টি উপজেলা পরিষদই এখন পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রেও একই দৃশ্যপট বিদ্যমান; বগুড়াসহ ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতেই এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অভাব রয়েছে, ফলে এগুলোকেও নির্বাচনের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিহীন অবস্থায় থাকা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধি ফিরে এলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নাগরিকরা তাদের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার সুযোগ পাবেন, যারা তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের ধারাকে বেগবান করবেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন যে সময়োপযোগী রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে, তা বাস্তবায়ন করতে পারলে এটি স্থানীয় পর্যায়ে এক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জোয়ার আনবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে। যারা নতুন ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হচ্ছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। কারণ স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানেই জয়ের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। তাই তৃণমূলের মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সচেতন ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সব ধরনের প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই এই নির্বাচনের মূল ভিত্তি।

রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্থানীয় নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূলের সমস্যাগুলো সমাধানের মূল শক্তি হলো স্থানীয় সরকার। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যখন তাদের এলাকায় জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসবেন, তখন মানুষের অধিকার আদায়ের পথ আরও প্রশস্ত হবে। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তাতে এটি নিশ্চিত যে, দ্রুতই বাংলাদেশের প্রতিটি স্থানীয় সরকার কাঠামোতে জনপ্রতিনিধিত্বের ধারা পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এই অবিচ্ছেদ্য অংশকে সফল করতে এখন প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা এবং নির্বাচনী পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার সদিচ্ছা। নির্বাচনকেন্দ্রিক এই ব্যাপক প্রস্তুতি অদূর ভবিষ্যতে দেশের শাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করে তুলবে বলেই বিশ্বাস সাধারণ মানুষের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত