সর্বশেষ :
ডায়াবেটিস নেই তবুও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি? যুক্তরাজ্যে মিলল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল কপি পেঁয়াজ উৎপাদনে রেকর্ড, তবুও কেন আমদানির চাপে কৃষক? সিলেটের সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার ৮৮ বছর পর নকআউটে জয়: ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিমান অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা: সাংবাদিক দেখেই দৌড় চিকিৎসকের বিশ্বমঞ্চে চুয়েট শিক্ষার্থীদের সাফল্য: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল ৪০ কোটি টাকায় ডমিনেজ স্টিল কিনছে আকিজ রিসোর্সেস থাইল্যান্ডে পিকআপের ধাক্কায় ৯ বৌদ্ধ ভিক্ষুর করুণ মৃত্যু

বিশ্বমঞ্চে চুয়েট শিক্ষার্থীদের সাফল্য: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার
বিশ্বমঞ্চে চুয়েট শিক্ষার্থীদের সাফল্য: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

প্রকাশ: ০৩ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠল ক্যাম্পাস। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার এক বর্ণাঢ্য ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এই বিশেষ দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন। নবীন শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দিতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেন চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশ্বব্যাপী সাফল্যের গল্প। প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, চুয়েটের শিক্ষার্থীরা কেবল দেশের সীমানার ভেতরে নয়, বরং বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও মেধার স্বাক্ষর রেখে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করে চলেছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুয়েটের মতো একটি গৌরবময় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া মানেই দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের কাতারে নিজেদের স্থান করে নেওয়া। তবে এই ভর্তিই শেষ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং যাত্রার সূচনা। এই যাত্রাকে অর্থবহ এবং ফলপ্রসূ করতে হলে শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আধুনিক বিশ্বে কেবল তত্ত্বীয় জ্ঞান দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়, বরং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু উদ্ভাবনের যে মানসিকতা, তা থেকেই আসবে প্রকৃত আত্মোন্নতি। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনা ও স্বপ্নের বীজ বপন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন তার বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রকৌশলীদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানান, বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবা ও সফটওয়্যারগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের মেধায় তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ব্যয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেছেন চুয়েটেরই একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এটি প্রমাণ করে যে, চুয়েটের পাঠ্যক্রম ও চর্চা শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানে কতখানি দক্ষ করে গড়ে তোলে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভূমি উন্নয়নের কর পরিশোধ, নামজারি ও ই-পর্চাসহ বিভিন্ন সেবা এখন মানুষের হাতের মুঠোয়, যার মূলে রয়েছে দেশীয় এই মেধা ও প্রযুক্তি।

ভূমি সেবার ডিজিটালাইজেশনের আরেকটি সফল উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামক জিওফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপটির কথা তুলে ধরেন। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং তাদের কার্যক্রম নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার যে মিশন গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে প্রযুক্তিবিদদের অবদান অনস্বীকার্য। আর এই প্রযুক্তিবিদদের বড় একটি অংশের শিক্ষালয় হলো চুয়েট। এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে সাধারণ মানুষ যে সেবা পাচ্ছে, তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এক অনন্য ভূমিকা রাখছে এবং এই অগ্রযাত্রায় চুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীরা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ ভ্রমণের সময় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা ও ফ্রান্সের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর নামকরা সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে তিনি চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে কাজ করতে দেখেছেন। গুগল, অ্যামাজন, টেসলা, সিমেন্স এবং স্যামসাংয়ের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা ও দূরদর্শিতার স্বাক্ষর রাখছেন। এটা কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য এক অভাবনীয় গর্বের বিষয়। বর্তমান নবীন শিক্ষার্থীরাও একদিন ঠিক একইভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দেবেন এবং বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন ও পরিবেশের সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটির গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন ও গবেষণা কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, যারা শিক্ষার্থীদের এই নতুন পথচলায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানটি নবীন শিক্ষার্থীদের মনে কেবল একটি নতুন ক্লাসের শুরু নয়, বরং একটি বিশ্বনাগরিক হয়ে ওঠার স্বপ্নের দ্বার উন্মোচন করেছে। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের প্রাণবন্ত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা জানতে পারল যে, আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য চুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠান তাদের জন্য এক বিশাল ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছে। পরিশ্রম, সততা এবং গবেষণার প্রতি নিষ্ঠা থাকলে তারা যে কেবল ভালো চাকরিই পাবেন তা নয়, বরং দেশের সম্পদ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অনন্য উচ্চতায় আসীন করতে পারবেন। চুয়েট পরিবারের সদস্য হিসেবে তারা যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তা যথাযথভাবে পালনের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ।

পরিশেষে বলা যায়, চুয়েটের মতো প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তর ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখছেন, তা জাতীয় অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের এই উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মনে এক নতুন দায়বদ্ধতা তৈরি করেছে। তারা এখন কেবল প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন না, বরং দেশের ভাবমূর্তি বিশ্বজুড়ে সমুন্নত রাখার প্রত্যয় নিয়ে তাদের শিক্ষা জীবন শুরু করলেন। প্রযুক্তি, মেধা ও দেশপ্রেমের এই ত্রিবেণী সঙ্গমে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা যেন অনাগত দিনে বাংলাদেশের প্রযুক্তি ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে যেতে পারেন, তা-ই এখন প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত