সর্বশেষ :
ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নিয়ে দুদুর বিস্ফোরক ভাষ্য ডায়াবেটিস নেই তবুও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি? যুক্তরাজ্যে মিলল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল কপি পেঁয়াজ উৎপাদনে রেকর্ড, তবুও কেন আমদানির চাপে কৃষক? সিলেটের সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার ৮৮ বছর পর নকআউটে জয়: ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিমান অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা: সাংবাদিক দেখেই দৌড় চিকিৎসকের বিশ্বমঞ্চে চুয়েট শিক্ষার্থীদের সাফল্য: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল ৪০ কোটি টাকায় ডমিনেজ স্টিল কিনছে আকিজ রিসোর্সেস

থাইল্যান্ডে পিকআপের ধাক্কায় ৯ বৌদ্ধ ভিক্ষুর করুণ মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার
থাইল্যান্ডে পিকআপের ধাক্কায় ৯ বৌদ্ধ ভিক্ষুর করুণ মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই   ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

থাইল্যান্ডের মুকদাহান প্রদেশে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত নয়জন বৌদ্ধ ভিক্ষুর মৃত্যু হয়েছে। ধর্মীয় শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া একদল ভিক্ষুর ওপর একটি পিকআপ ভ্যান তীব্র গতিতে আঘাত হানলে এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। থাইল্যান্ডের মতো বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এই সংবাদটি গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, একটি ১১ বছর বয়সী শিশু গাড়িটি চালাচ্ছিল। অভিভাবকের অজান্তে এবং কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই শিশুটি পরিবারের পিকআপটি নিয়ে বের হয়েছিল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের বা একটি সম্প্রদায়ের জন্য ট্র্যাজেডি নয়, বরং সড়ক নিরাপত্তা ও অভিভাবকত্বের দায়িত্ববোধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

ঘটনার দিন ৩৫ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং পাঁচজন সাধারণ অনুসারী একটি সুশৃঙ্খল তীর্থযাত্রা বা পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। তারা যখন মুকদাহান প্রদেশের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ করেই একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি তাদের ওপর উঠে যায়। সংঘর্ষটি এতই প্রচণ্ড ছিল যে, ঘটনাস্থলেই পাঁচজন ভিক্ষু প্রাণ হারান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন ভিক্ষু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। দুর্ঘটনার পরবর্তী দৃশ্য ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ভিক্ষুদের গেরুয়া বস্ত্র, তাদের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং ভাঙা পিকআপটির ধ্বংসাবশেষ। এই দৃশ্য দেখে যে কারো হৃদয় ব্যথিত হওয়ার কথা।

থাই পুলিশের মেজর জেনারেল পাইরোজ থাইফুৎসা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই তারা তদন্ত শুরু করেছেন। গাড়িটি কেন এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দ করা হয়েছে দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপ ভ্যানটি। শিশুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, সে বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং তার সঙ্গে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কথা বলছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে শিশুটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং ঘটনার দিন অসুস্থতার কারণে স্কুলে না গিয়ে বাড়িতে একাই ছিল। অভিভাবকরা তাকে বাড়িতে রেখে বাইরে যাওয়ার সুযোগে সে চাবি নিয়ে গাড়িটি বের করে ফেলে। অভিভাবকরা গাড়িটি খুঁজে না পেয়ে পুলিশকে জানানোর আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটে যায়।

আহত ভিক্ষুদের চিকিৎসার জন্য মুকদাহান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখনো তিনজন ভিক্ষুর অবস্থা সংকটাপন্ন এবং অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ভিক্ষু ফ্রা সোমপং অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি যখন ধ্যানের মন্ত্র জপ করছিলেন, তখন হঠাৎ করেই এক বিকট শব্দ এবং দ্রুতগতিতে আসা পিকআপটি তাদের ওপর আছড়ে পড়ে। তিনি ও তার পাশের এক ভিক্ষু অলৌকিকভাবে কয়েক সেকেন্ড আগে সরে যেতে পারায় প্রাণে বেঁচে যান, কিন্তু চোখের সামনেই সহকর্মীদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু তাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলেছে।

থাইল্যান্ডের সমাজে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা অত্যন্ত সম্মানিত। তারা সমাজের নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হন। তাদের ধর্মীয় পদযাত্রা বা শোভাযাত্রায় সাধারণ মানুষ খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এমন একটি পবিত্র কাজে থাকা অবস্থাতেই তারা দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে। মুকদাহান প্রদেশের গভর্নর ওয়ারায়ান বুননারাত এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই দুর্ঘটনাটি শুধু একটি ঘটনা নয়, এটি সবার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন শিশুরা কোনোভাবেই গাড়ির চাবি বা বিপজ্জনক সরঞ্জামের নাগাল না পায়। অভিভাবকদের অসতর্কতা যে এমন বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।

এই দুর্ঘটনাটি আধুনিক বিশ্বে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি ১১ বছরের শিশু যদি পরিবারের পিকআপ নিয়ে বের হওয়ার সুযোগ পায়, তবে তা পারিবারিক নজরদারির চরম অভাবকেই নির্দেশ করে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মানসিক অবস্থার ওপর অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ কেন ছিল না, তা নিয়ে এখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে শিশুটির অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না। কারণ, থাই আইনে নাবালকের দ্বারা এমন অপরাধের দায়ভার অভিভাবক বা সংশ্লিষ্টদের ওপর বর্তায় কি না, তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

শোকসন্তপ্ত পরিবার ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখন কেবলই বিচারের দাবি করছেন। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সবাই থাইল্যান্ডের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। যারা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন, তাদের সম্মান জানাতে থাইল্যান্ডের মানুষ প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও প্রার্থনার আয়োজন করেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, একটি সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে লুকানো এই অবহেলা কি আসলেই পূরণীয়? প্রতিটি জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং সামান্য সচেতনতা যদি হাজারো জীবন বাঁচাতে পারে, তবেই এই শোকের সার্থকতা মিলবে। মুকদাহান প্রদেশের এই ঘটনা যেন আগামী দিনে আর কোথাও কোনো পরিবারের বা সম্প্রদায়ের ওপর নেমে না আসে, সেটিই এখন বড় প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত