সর্বশেষ :
প্রথম বছরেই চমক: ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার বিপুল মুনাফা শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো: বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সতর্কতা ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নিয়ে দুদুর বিস্ফোরক ভাষ্য ডায়াবেটিস নেই তবুও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি? যুক্তরাজ্যে মিলল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল কপি পেঁয়াজ উৎপাদনে রেকর্ড, তবুও কেন আমদানির চাপে কৃষক? সিলেটের সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার ৮৮ বছর পর নকআউটে জয়: ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিমান অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা: সাংবাদিক দেখেই দৌড় চিকিৎসকের

৮৮ বছর পর নকআউটে জয়: ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার
৮৮ বছর পর নকআউটে জয়: ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড

প্রকাশ: ০৩ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে দীর্ঘ ৮৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটল। ১৯৩৮ সালের পর থেকে নকআউট পর্বে জয়ের মুখ দেখেনি সুইজারল্যান্ড। বহু বিশ্বমঞ্চ পার হওয়ার পর অবশেষে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে এসে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করল সুইসরা। ভ্যাঙ্কুভারের মাঠে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো। ব্রিল এমবোলো ও ড্যান এনদোয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে সুইসরা শুধু জয়ই তুলে নেয়নি, বরং নিজেদের সামর্থ্যের নতুন জানান দিয়েছে। এই জয় কেবল একটি ম্যাচের সাফল্য নয়, বরং এটি সুইজারল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন।

ম্যাচের শুরু থেকেই সুইজারল্যান্ড তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল। মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পায় তারা। জোহান মানজাম্বির নিখুঁত পাসে বল পেয়ে ৬ গজ দূর থেকে লক্ষ্যভেদে ভুল করেননি অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলো। এবারের বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল, যা দলের আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে নিয়ে যায়। প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য এবং মাঝমাঠে তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল দেখার মতো। আলজেরিয়া সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও সুইসদের জমাটবদ্ধ ডিফেন্স ভাঙতে ব্যর্থ হয়। এমবোলোর সেই গোলটিই প্রথমার্ধের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং সুইজারল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুইজারল্যান্ড তাদের ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয়। ম্যাচের ৪৬ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে ড্যান এনদোয়ের নেয়া এক দুর্দান্ত শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর সুইসরা অনেকটাই রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে এবং বলের দখল নিজেদের পায়ে রাখার চেষ্টা করে। অন্যদিকে, গোল পরিশোধে মরিয়া আলজেরিয়া আক্রমণের ধার বাড়ালেও সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি। এনদোয়ের ওই গোলটি যেন সুইসদের নকআউটে ওঠার পথ অনেকটা পরিষ্কার করে দিয়েছিল। আলজেরিয়ার ফুটবলাররা ব্যবধান কমানোর জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও সুইসদের সুসংগঠিত পরিকল্পনার সামনে কোনোভাবেই কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না।

ম্যাচের ৮১ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের জয় পাওয়ার পথে একটি অবিশ্বাস্য মুহূর্ত ঘটে। ফাবিয়ান রেইডার ফাঁকা গোলবার পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে সুযোগটি নষ্ট করেন। গোল করার মতো সহজ সুযোগ পেয়েও তিনি বল ঠিকমতো জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন এবং বলটি প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের গ্লাভসে গিয়ে জমা হয়। তবে এই মিস সুইসদের জয়ের পথে কোনো কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কারণ ততক্ষণে ম্যাচটি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। রেইডারের ওই ভুলে গ্যালারিতে থাকা সুইস সমর্থকদের মধ্যে মৃদু শঙ্কা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত দলটি নিজেদের জয়ের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয় এবং ম্যাচশেষে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

এই জয়ের পেছনে সুইজারল্যান্ডের সুশৃঙ্খল দলীয় পরিকল্পনা এবং কোচিং স্টাফের কৌশলের বড় অবদান রয়েছে। দলের প্রতিটি খেলোয়াড় মাঠে নিজেদের ভূমিকা পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে। বিশেষ করে এমবোলো ও এনদোয়ের আক্রমণভাগের সমন্বয় ছিল চমৎকার। রক্ষণভাগে তাদের খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা এবং মাঝমাঠে বল পজিশন ধরে রাখার কৌশল আলজেরিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রেখেছিল। আলজেরিয়াও হার মানার পাত্র ছিল না, তারা লড়াই করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সুইজারল্যান্ডের বর্তমান ফর্মের সামনে তাদের কৌশল খুব একটা কার্যকর হয়নি। সুইসরা এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত, যা তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

নকআউট পর্বে দীর্ঘ ৮৮ বছরের খরা কাটিয়ে জয় পাওয়া সুইজারল্যান্ড ফুটবলের জন্য একটি আবেগের বিষয়। ১৯৩৮ বিশ্বকাপের পর থেকে নকআউট পর্বে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ফিরতে হয়েছে তাদের। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটল এই জয়ে। সুইস ফুটবল প্রেমীদের জন্য এটি এক উৎসবের মুহূর্ত। মাঠের খেলোয়াড়দের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তি আর জয়ের আনন্দ। দলের অধিনায়ক ও সহকর্মীদের একে অপরকে জড়িয়ে ধরে জয়ের উদযাপন করাটা ছিল ফুটবলের চিরাচরিত এক সুন্দর দৃশ্য। এই জয় তাদের বিশ্বকাপের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং বিশ্ব ফুটবলের বড় দলগুলোর সমীহের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

পরিশেষে বলা যায়, সুইজারল্যান্ড এই জয়ে প্রমাণ করেছে যে, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফুটবলে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। ৮৮ বছরের ইতিহাস বদলে দেওয়া এই দলটির পরবর্তী লক্ষ্য এখন শিরোপার দিকে এগিয়ে যাওয়া। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ কারা হবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে বর্তমান পারফরম্যান্স বজায় থাকলে সুইজারল্যান্ড যে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের দাবি তুলে ধরবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ভ্যাঙ্কুভারের গ্যালারিতে উড়তে থাকা সুইস পতাকা যেন বার্তা দিচ্ছে—তারা এসেছে ইতিহাস গড়তে এবং নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে। ফুটবল ভক্তরা এখন মুখিয়ে আছেন পরবর্তী ম্যাচের জন্য, যেখানে সুইজারল্যান্ড আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত