সর্বশেষ :
প্রথম বছরেই চমক: ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার বিপুল মুনাফা শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো: বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সতর্কতা ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নিয়ে দুদুর বিস্ফোরক ভাষ্য ডায়াবেটিস নেই তবুও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি? যুক্তরাজ্যে মিলল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল কপি পেঁয়াজ উৎপাদনে রেকর্ড, তবুও কেন আমদানির চাপে কৃষক? সিলেটের সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার ৮৮ বছর পর নকআউটে জয়: ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিমান অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা: সাংবাদিক দেখেই দৌড় চিকিৎসকের

ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নিয়ে দুদুর বিস্ফোরক ভাষ্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার
ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নিয়ে দুদুর বিস্ফোরক ভাষ্য

প্রকাশ: ০৩ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার সূতিকাগার। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান আজ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা। কিন্তু সম্প্রতি দেশের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের করা একটি বিতর্কিত মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ব্যারিস্টার ফুয়াদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে ‘উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। তার এই মন্তব্য এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথের আলোচনায় অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

শামসুজ্জামান দুদু একটি গণমাধ্যমের নিয়মিত সংলাপে অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে, যা ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্রপথিক হিসেবে কাজ করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানকে অপমান করা মানে পুরো জাতিকে অপমান করা। তিনি আরও বলেন, দেশের সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সিংহভাগই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ভিন্ন মত বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্রের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ করতে পারেন না। ফুয়াদের বক্তব্যের পর তাকে উন্মাদ ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে, তা নিয়ে দুদু বিস্ময় প্রকাশ করেন।

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিতর্কিত মন্তব্যের মূলে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে তার কঠোর সমালোচনা। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি কাল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে রাষ্ট্রের কী ক্ষতি হবে। তার মতে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ফ্যাসিস্ট, টাউট ও বাটপার তৈরি করার পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায় রয়েছে। এই বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই দেশের সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা এই বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। শিক্ষার্থীরা কেবল প্রতিবাদ জানিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং রাজু ভাস্কর্যে ফুয়াদের ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করে তাতে জুতা নিক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ফুয়াদের এই বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন মনে করে, একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠকে এভাবে অপমান করা অত্যন্ত অদূরদর্শী ও উসকানিমূলক। তারা বলছেন, ভিন্ন মত পোষণ করা গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের গৌরবকে অস্বীকার করা বা তার অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুয়াদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনেকেই লিখেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা দুঃসাধ্য। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা মানে নিজের শেকড়কে অস্বীকার করা।

সংলাপে শামসুজ্জামান দুদু জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজস্ব আদর্শ অনুযায়ী রাজনীতি করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে জামায়াতের কর্মকাণ্ডে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহকে বারবার সামনে আনার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, সরকারের দোষত্রুটি খুঁজে না পেয়ে জামায়াত হয়তো ভিন্ন কোনো কর্মসূচি বা পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে। তবে বিএনপি তাদের নিজস্ব আদর্শিক অবস্থান থেকে রাজনীতি পরিচালনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর এই পারস্পরিক মতপার্থক্য ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা দেশের চলমান রাজনীতির একটি অংশ হলেও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করার বিষয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি বলে মত দেন বিশ্লেষকরা।

ব্যারিস্টার ফুয়াদের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যেভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, তা থেকে বোঝা যায় যে, তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রিয় বিদ্যাপীঠের সম্মান রক্ষায় কতটা সচেতন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার থাকলেও, তা যেন প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না করে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। শামসুজ্জামান দুদুর তীব্র প্রতিক্রিয়া মূলত সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি মনে করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। এই আদর্শের ওপর আঘাত হানলে তা কেবল নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে সংকটে ফেলে।

পরিশেষে বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়, তবে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা সীমা অতিক্রম করেছে বলে মনে করছেন অধিকাংশ মানুষ। ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত মতামতের গণ্ডি পেরিয়ে এক গভীর সামাজিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। শামসুজ্জামান দুদুর মন্তব্যের পর এখন দেখার বিষয়, ব্যারিস্টার ফুয়াদ তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চান কি না অথবা তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেন কি না। রাজনীতির ময়দানে মতাদর্শের ভিন্নতা থাকবে, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকবে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের গায়ে কালিমা লেপন করার সংস্কৃতি যেন রাজনীতির মূলধারায় প্রবেশ করতে না পারে—এই প্রত্যাশা এখন আপামর জনগণের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকবে, আর এমন বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সেই গৌরবই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত