ডেটিং অ্যাপে পরিচয়, পরিণয়ে অংশুলা ও রোহন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ২৬ বার
ডেটিং অ্যাপে পরিচয়, পরিণয়ে অংশুলা ও রোহন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডের কাপুর পরিবারে আনন্দের জোয়ার। চার বছরের দীর্ঘ প্রেম এবং বন্ধুত্বের সম্পর্ক অবশেষে পূর্ণতা পেল বিয়ের মাধ্যমে। বলিউড প্রযোজক বনি কাপুর ও প্রয়াত মোনা শৌরি কাপুরের কন্যা অংশুলা কাপুর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী রোহন ঠাক্করের সাথে। গতকাল সোমবার মুম্বাইয়ের অভিজাত হোটেল তাজ ল্যান্ডস এন্ড-এ আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ ও অন্তরঙ্গ অনুষ্ঠানে তাঁরা একে অপরের সাথে নতুন জীবন শুরুর অঙ্গীকার করেন। রূপকথার গল্পের মতো শুরু হওয়া তাঁদের এই প্রেমের পরিণতি যেন নতুন প্রজন্মের কাছে আধুনিক প্রেমের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে রইল।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে সনাতন হিন্দু রীতিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পবিত্র অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাত পাকে ঘুরছেন নবদম্পতি। অংশুলা ও রোহনের চোখেমুখে ছিল একরাশ আনন্দ আর অনাগত ভবিষ্যতের উজ্জ্বল স্বপ্ন। বিয়ের এই বিশেষ দিনে অংশুলা বেছে নিয়েছিলেন হালকা গোলাপি ও আড়ু রঙের এক মখমলি লেহেঙ্গা। অন্যদিকে, রোহন পরেছিলেন আইভরি ও সোনালি রঙের রাজকীয় শেরওয়ানি। বিয়ের নথিতে স্বাক্ষরের সময় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। কাপুর পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশটি যেন এক পারিবারিক মিলনমেলায় রূপ নিয়েছিল।

এই বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাপুর পরিবারের প্রায় সব সদস্য। অনিল কাপুর, অর্জুন কাপুর, জাহ্নবী কাপুর, খুশি কাপুরসহ তারকারা বিয়ের প্রতিটি আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। অর্জুন কাপুর বিশেষ অনুরোধ করেছিলেন যাতে বাইরের সংবাদমাধ্যম বা ফটোগ্রাফাররা অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় না করেন, কারণ পুরো অনুষ্ঠানটি তাঁরা একান্তই ব্যক্তিগত পরিসরে সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কেবল সোমবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়েছিল উৎসবের আমেজ। গত ২১ জুন রোহনের পরিবারের উদ্যোগে ‘মাতা কি চৌকি’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিয়ের উৎসবের শুভ সূচনা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে মেহেদি অনুষ্ঠান ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পর্ব পালিত হয়।

অংশুলার দুই বোন জাহ্নবী ও খুশি কাপুর এই বিয়ের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নিয়েছেন অনন্য ভূমিকা। বিশেষ করে অংশুলার ‘চুড়া ও কালিরা’ পরানোর অনুষ্ঠানটি ছিল তাঁদেরই বিশেষ পরিকল্পনা। অনুষ্ঠানের প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ে তাঁদের ভালোবাসা ও যত্নের ছাপ ছিল স্পষ্ট। বিয়ের পর নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে অংশুলা আবেগঘন পোস্ট দিয়ে লিখেছেন যে, জাহ্নবী ও খুশির এই আন্তরিক আয়োজন তাঁর স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর ছিল। এমন সহযোগিতার কারণেই তিনি কোনো উদ্বেগ ছাড়াই বিয়ের আনন্দটুকু পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করতে পেরেছেন।

অংশুলা ও রোহনের প্রেমকাহিনি অনেকটা আধুনিক সিনেমার গল্পের মতোই। ২০২২ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয়ের শুরু। প্রথম আলাপের সেই রাত ১টা ১৫ মিনিটের কথোপকথন থেকে শুরু হয়েছিল এক গভীর বন্ধুত্বের যাত্রা, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় প্রণয়ে। তিন বছর প্রেমের পর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে রোহন যখন বিয়ের প্রস্তাব দেন, তখন অংশুলা মুহূর্তটিকে ‘জাদুকরী’ বলে অভিহিত করেছিলেন। রোহনের সেই আন্তরিক ও ব্যক্তিগত প্রস্তাবের ধরন অংশুলাকে এতটাই আপ্লুত করেছিল যে, তিনি চোখের জল আর হাসিতে ভরা মুখেই ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছিলেন।

এই দম্পতির সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গভীর বোঝাপড়া। অংশুলা বারবার জানিয়েছেন যে, তিনি আগে কখনো রূপকথার গল্পে খুব একটা বিশ্বাস করতেন না, কিন্তু রোহনের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তাকে সেই অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। প্রযোজক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারে সফল অংশুলা ‘দ্য ট্রেইটর্স’ ওয়েব সিরিজের মাধ্যমেও দর্শকদের নজর কেড়েছেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন অত্যন্ত সাদামাটা ও অমায়িক মানুষ হিসেবেই পরিচিত।

আজ মঙ্গলবার বিয়ের পর একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বহু তারকার উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মুম্বাইয়ের শোবিজের দুনিয়ায় অংশুলা-রোহনের এই বিয়ে নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। সবাই তাঁদের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। আধুনিক যুগের প্রযুক্তিনির্ভর পরিচিতি যে কতটা সুদৃঢ় সম্পর্কের জন্ম দিতে পারে, তা এই দম্পতি প্রমাণ করে দিলেন। কাপুর পরিবারে নতুন সদস্য হিসেবে রোহনের আগমন এবং অংশুলার সাথে তাঁর এই যাত্রা যেন বিনোদন জগতে নতুন এক ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই নবদম্পতির সামনের দিনগুলো যেন ভালোবাসা আর বোঝাপড়ায় ভরপুর থাকে—এমনই প্রত্যাশা তাঁদের ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত