সর্বশেষ :

সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি ডা. তাহের: স্বচ্ছতার নতুন চ্যালেঞ্জ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ২৯ বার
সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি ডা. তাহের: স্বচ্ছতার নতুন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী সংসদীয় কমিটি হিসেবে পরিচিত ‘সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। রাষ্ট্রীয় অর্থের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই কমিটি সাংবিধানিক ও আইনিভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম কর্তৃক প্রস্তাবিত এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে ডা. তাহেরের নিয়োগের মাধ্যমে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি মূলত সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহারের পর্যবেক্ষণ এবং নিরীক্ষা বা অডিট সংক্রান্ত আপত্তিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার দায়িত্ব পালন করে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার বাজেট বরাদ্দ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে কি না এবং অডিট রিপোর্টে উত্থাপিত প্রশ্নের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কী জবাব দিচ্ছে—তার চুলচেরা বিশ্লেষণই এই কমিটির প্রধান কাজ। রাষ্ট্রের আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে এই কমিটি সংসদীয় নজরদারির মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাই ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মতো অভিজ্ঞ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপর এই কমিটির দায়িত্ব অর্পণ করায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মানদণ্ড আরও কঠোর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমের ওপর আইনসভার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটি সেই নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। অতীতের বিভিন্ন সময়ে সরকারি অর্থের অপচয়, অডিট আপত্তির বিশাল স্তূপ এবং জবাবদিহিতার অভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হ্রাসের যে অভিযোগগুলো ছিল, তা দূর করতে এই কমিটি এখন নতুন করে মাঠে নামছে। ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য হবে সরকারি অর্থের প্রতিটি পাই পয়সার স্বচ্ছ হিসেব নিশ্চিত করা। কোনো অনিয়ম বা আর্থিক দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

কমিটির সদস্যদের তালিকা দেখলে বোঝা যায় যে, এতে রাজনৈতিক বৈচিত্র্য এবং অভিজ্ঞতাকে সমন্বয় করা হয়েছে। কমিটিতে বিএনপির আমানউল্লাহ আমান, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মোহাম্মদ হাফিজ ইব্রাহিম, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, মোহাম্মদ জালালউদ্দিন, মো. মাহবুবুর রহমান, এস কে আজিজুল বারী হেলাল, মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ জাকির হোসেনের মতো অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা রয়েছেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সৈয়দ জয়নুল আবেদিন, মো. রুহুল আমিন এবং মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলামও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সব দলের অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি রাষ্ট্রীয় আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়।

রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় এবং নিরীক্ষা আপত্তির বিষয়গুলো কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং এগুলো জনগণের করের টাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এই কমিটির প্রতিটি বৈঠক হবে জনগুরুত্বপূর্ণ। বাজেট পাসের পর সরকার যখন অর্থ খরচ করে, তখন সেই খরচের যথার্থতা যাচাই করা জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ সদস্যদের আইনি দায়িত্ব। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগের যে দীর্ঘ তালিকা থাকে, তা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সরকারি সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এই কমিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে এই কমিটি কি অতীতের দীর্ঘদিনের অডিট আপত্তির জট খুলতে পারবে? নাকি পূর্বের মতোই কেবল রুটিন মাফিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—সেই প্রশ্নটি এখন সাধারণ মানুষের মনে উদয় হয়েছে।

সাফল্যের মূল চাবিকাঠি নির্ভর করছে কমিটির সদিচ্ছা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতার ওপর। ডা. তাহের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সংসদে যেভাবে সরব থাকেন, তেমনি কমিটির সভাপতি হিসেবেও তিনি নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থান নেবেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সরকারি দপ্তরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জবাবদিহি এড়ানোর প্রবণতা ভাঙা এই কমিটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কমিটির সদস্যরা যদি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল রাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন, তবে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অসম্ভব কিছু নয়। ডা. তাহের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সরকারি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যে নতুন পথচলা শুরু হলো, তা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সবশেষে বলা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই কমিটি যদি রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় রোধ করতে পারে এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করতে পারে, তবেই সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষ পাবে। ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের জন্য এটি যেমন একটি বড় পরীক্ষার ক্ষেত্র, তেমনি তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় অর্জনও বটে। জনগণের আস্থা ধরে রেখে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে তিনি এই কমিটির মর্যাদা আরও সুউচ্চ করবেন—এটাই বর্তমান সময়ের দাবি। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারি অর্থের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হোক এই কমিটির মূল ব্রত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত