সর্বশেষ :

রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

প্রকাশ:  ০৯ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে রাজস্ব আহরণ একটি অপরিহার্য ভিত্তি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জন্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার যে উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনযোগ্য বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে এবং রাজস্ব ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায়ের বর্তমান ধারা এবং এনবিআর কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে তিনি এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আশাবাদী। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআরের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সুসংগঠিতভাবে কাজ শুরু করেছেন। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের তুলনায় চলতি বছরে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জটি বিশাল হলেও, সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে এটি পূরণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। অর্থমন্ত্রীর এই আত্মবিশ্বাস ব্যবসায়ী মহল ও সংশ্লিষ্ট মহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, যারা অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ রাজস্ব প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এনবিআর সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরের শেষ দিকে রাজস্ব আদায়ের গতি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৮৮ হাজার কোটি টাকার মতো ঘাটতি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে এনবিআর প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে বলে প্রাক্কলিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এই অর্জন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, তবুও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা কিছুটা কম। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আরও বেশি কার্যকর ও গতিশীল পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শুধু রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নয়, বরং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) নেতাদের সঙ্গে তিনি আলাদা বৈঠক করেন। বস্ত্র খাত দেশের রফতানি আয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, আর তাই এই খাতের সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমেই রাজস্ব আহরণ সহজতর হবে বলে মন্ত্রী মনে করেন। বিটিএমএ নেতাদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে তিনি জানান, বেশ কিছু সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণ এবং অযৌক্তিক জটিলতা নিরসনে সরকার ইতোমধ্যে ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার প্রাসঙ্গিকতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের লক্ষ্য কেবল কর আদায় নয়, বরং একটি সহায়ক ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করা। তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, যে কোনো ধরনের সমস্যা বা নীতিগত জটিলতা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। সরকারের এই নমনীয় অবস্থান এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের মানসিকতা শিল্পমালিকদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। তারা মনে করছেন, কর প্রশাসনের হয়রানি কমিয়ে যদি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কর ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, তবেই কেবল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাধারণ ও বড় করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।

রাজস্ব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার জন্য এনবিআর বর্তমানে আধুনিকায়নের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে। করজাল বা ট্যাক্স নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করার চেষ্টা চলছে। জুনের শেষ ২০ দিনে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হওয়ায় এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ বছর রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে অটোমেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যাতে করদাতারা ঘরে বসেই কর প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। এছাড়া, কর প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।

দেশের অর্থনীতির প্রতিটি খাতের উন্নয়নের সঙ্গে রাজস্বের সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান। অর্থমন্ত্রী যখন বলেন যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে, তখন এর পেছনে অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বার্তা লুকিয়ে থাকে। ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এনবিআরকে কেবল প্রথাগত কর আদায়ের পথে না হেঁটে করদাতাদের আস্থা অর্জনে কাজ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়লে এবং ব্যবসায়ীদের আস্থার সংকট দূর হলে রাজস্ব আদায়ের এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা খুব একটা কঠিন হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

পরিশেষে বলা যায়, অর্থমন্ত্রীর এই আশাবাদ কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক নয়, বরং এটি একটি সুসংহত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বহিঃপ্রকাশ। বিদায়ী বছরের রাজস্ব ঘাটতির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে চলতি বছর সরকার আরও বেশি সতর্ক। জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যকার এই নিয়মিত সংলাপ এবং সমস্যা সমাধানের এই ইতিবাচক ধারা যদি পুরো বছর অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি অচিরেই বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির মুখ দেখবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সচেতন অংশগ্রহণ এবং এনবিআরের নিবিড় তদারকিই পারে এই লক্ষ্যকে সফলতার বন্দরে পৌঁছে দিতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত