সর্বশেষ :

বগুড়ায় তুরস্কের সঙ্গে যৌথ ড্রোন কারখানা: উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
বগুড়ায় তুরস্কের সঙ্গে যৌথ ড্রোন কারখানা: উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

প্রকাশ: ০৯ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় বাংলাদেশ আজ এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যেখানে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বগুড়াকে ঘিরে গ্রহণ করা হয়েছে এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, যা বদলে দিতে পারে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতির চিত্র। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বগুড়ায় তুরস্কের সহযোগিতায় একটি যৌথ ড্রোন কারখানা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই কারখানাটি কেবল ড্রোন উৎপাদনের কেন্দ্রই হবে না, বরং এটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রযুক্তিশিল্পে এক নতুন যুগের সূচনা করবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান।

বগুড়ার সামগ্রিক উন্নয়নের রূপরেখা দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের অনুমোদন ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে। এটি কোনো সাধারণ প্রকল্প নয়; বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন যুদ্ধবিমানগুলোর একটি অংশ এই বিমানঘাঁটিতে রাখা হবে। ড্রোন কারখানা এবং বিমানঘাঁটি—এই দুটি স্থাপনা মিলে বগুড়া ভবিষ্যতে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত কেন্দ্রে পরিণত হবে। এটি যেমন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কর্মসংস্থানের এক বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করবে। কারিগরি শিক্ষার বিস্তার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের মাধ্যমে বগুড়াকে একটি মডেল জেলায় রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন যে, উন্নয়নের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ বা ‘পাগলামি’ রয়েছে। বগুড়ার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অতীতে তার স্থাপিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এমপিওভুক্ত করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিগত দিনগুলোতে বগুড়ার মানুষ বঞ্চিত ছিল, সেখানে উন্নয়ন হয়নি, চাকরিপ্রার্থীরা অবহেলার শিকার হয়েছেন। এখন সেই বৈষম্য দূর করে প্রধানমন্ত্রীর ‘সমান তালে উন্নয়ন’ নীতির আলোকে প্রতিটি জেলাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমেই একটি অঞ্চলের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি তার নির্বাচনী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

বগুড়ার উন্নয়ন কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের উন্নয়ন নয়, বরং এটি পুরো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ড্রোন কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্তটি তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি বহিঃপ্রকাশ। এই যৌথ উদ্যোগে তুরস্কের আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নিজস্ব ড্রোন তৈরির সক্ষমতাকে আরও বিকশিত করবে। সামরিক ক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পাশাপাশি এই প্রযুক্তি বেসামরিক খাতে, যেমন কৃষি বা উদ্ধারকাজে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেদিকেও নজর রাখা হবে বলে জানা গেছে। কারখানাটি কেন্দ্র করে স্থানীয় শিল্পপণ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার ঘটবে, যা পুরো উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক গতিধারাকে ত্বরান্বিত করবে।

সংলাপে মীর শাহে আলম আরও জানান যে, এ বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। একটি বড় জাতীয় বাজেট বাস্তবায়ন যেমন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে। উন্নয়নের পাশাপাশি রাজনীতির মাঠে স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।

বগুড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। ড্রোন কারখানা ও বিমানঘাঁটির অনুমোদন সেই দাবির পূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ মনে করছেন, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বগুড়া কেবল একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে নয়, বরং একটি প্রযুক্তি ও সামরিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পাবে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক হবে। অতীতে যে বঞ্চনার অভিযোগ ছিল, তা দূর করে বগুড়াকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে তা স্থানীয়দের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

পরিশেষে বলা যায়, তুরস্কের সঙ্গে এই যৌথ কারখানা স্থাপনের উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রমাণ। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির দিকে বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মীর শাহে আলমের বক্তব্যে বগুড়ার যে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চিত্র ফুটে উঠেছে, তা কেবল আশার বাণী নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের অঙ্গীকার। উন্নয়ন যদি সঠিক পথে পরিচালিত হয় এবং প্রযুক্তি যদি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তবেই একটি দেশের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব। বগুড়ার এই শিল্পায়নের পথে যাত্রা একটি সফল দৃষ্টান্ত হিসেবে টিকে থাকবে, যা পুরো দেশের উন্নয়নের মডেল হিসেবে কাজ করবে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বগুড়া অচিরেই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত