সর্বশেষ :

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে: রাশেদ খান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩২ বার
প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে: রাশেদ খান

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে যে নেতিবাচক আলোচনার ঝড় উঠেছে, তাকে এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, একটি চিহ্নিত মহল স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করে মূলত সরকারকেই বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাশেদ খানের মতে, এই পরিকল্পিত অপপ্রচারের মাধ্যমে কেবল একজন প্রতিমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে না, বরং এর পেছনে রয়েছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যের অসারতা তুলে ধরতে গিয়ে রাশেদ খান স্পষ্ট করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিমন্ত্রী নিজেই বিভিন্ন সময়ে এটি স্পষ্ট করেছেন যে, বয়সের ব্যবধানের কারণে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার স্কুল বা কলেজ জীবনের কোনো সংযোগ ছিল না। তাদের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গড়ে ওঠা একটি পেশাদার ও সুশৃঙ্খল সম্পর্ক। অথচ বিরোধীপক্ষের বিভিন্ন টকশো এবং প্রচারমাধ্যমে বারবার তাকে প্রধানমন্ত্রীর ‘বন্ধু’ হিসেবে তকমা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। রাশেদ খানের মতে, সমালোচনার আড়ালে ব্যক্তিগত এই আক্রমণের উদ্দেশ্য হলো সরকারকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর শাহে আলমের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে বলে স্বীকার করেও রাশেদ খান মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের একটি চিত্র তুলে ধরে দাবি করেন যে, প্রচার করা হচ্ছে বগুড়ায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ প্রকৃত তথ্যানুযায়ী তালিকায় গোপালগঞ্জ সপ্তম স্থানে রয়েছে এবং বগুড়া রয়েছে ১৬তম অবস্থানে। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করে জনমনে অসন্তোষ তৈরির প্রক্রিয়াকে তিনি ‘পরিকল্পিত মিথ্যাচার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, তথ্যের বিকৃতি ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূতই নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকিস্বরূপ।

প্রতিমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কাজের সমন্বয় প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই বিএনপি নেতা। তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মীর শাহে আলম বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাথে ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়ন নিয়ে সমন্বয় সভা করেছেন এবং যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এমন উদ্যোগ বাংলাদেশে বিরল এবং এটি একটি সমন্বিত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির উদাহরণ। কিন্তু এমন প্রশংসনীয় কাজকেও সমালোচনার তিরে বিদ্ধ করা হচ্ছে। রাশেদ খান দাবি করেন, একটি মহলের অন্ধ সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু এখন প্রতিমন্ত্রী। এসব নেতিবাচক প্রচারণার পেছনে আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগও তিনি করেন।

কেন এই আক্রমণ বা প্রচারণা? রাশেদ খান মনে করেন, এর পেছনে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। মাসখানেক আগে আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম যে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন যে, দলটি বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে পারবে না—সেই থেকেই তিনি পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের মূল টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। তার এই স্পষ্টবাদী বক্তব্যের প্রতিশোধ নিতেই এখন তার পেছনে উঠেপড়ে লেগেছে আওয়ামী লীগ ও তাদের অনুসারী মহল। অন্যদিকে, বিরোধী দলের কিছু অংশের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা একটি অদ্ভুত রাজনৈতিক মেরুকরণকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক বিতর্কে সত্য ও মিথ্যা যাচাই করার প্রবণতা কমে গেছে। একে অপরকে বিতর্কিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জল্পনা-কল্পনাকে ব্যবহার করা একটি নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি। মীর শাহে আলমের ক্ষেত্রেও সেই একই চিত্র ফুটে উঠেছে। রাশেদ খানের এই ফেসবুক পোস্টটি সেই রাজনৈতিক অস্থিরতারই একটি প্রতিচ্ছবি। তিনি তার বক্তব্যে এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে, ভুল করলে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা জবাবদিহিতার মুখোমুখি হবেন—এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ভিত্তিহীন গোয়েন্দা গল্প বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা কোনো সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না।

সবশেষে, রাশেদ খানের আহ্বানে ছিল রাজনৈতিক শুভবোধের প্রতিফলন। তিনি দলমত নির্বিশেষে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে সরে এসে গঠনমূলক রাজনৈতিক চর্চায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে এই সম্মিলিত মিথ্যাচারের পেছনে যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা দেশবাসী দ্রুতই বুঝতে পারবে। মিথ্যা প্রচারণার নেশায় যারা লিপ্ত, তারা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতেই এমন কৌশল অবলম্বন করছে। রাশেদ খান আশা প্রকাশ করেন যে, জনগণ এই বিভ্রান্তিতে পড়বে না এবং প্রকৃত সত্যটি জানার জন্য অপেক্ষা করবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী যে ধরনের সমন্বিত উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার পথ তৈরি করেছেন, তা যেন কোনো ষড়যন্ত্রের কারণে ব্যাহত না হয়—সেদিকেই সবার মনোযোগ থাকা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত