সর্বশেষ :
স্বর্ণ-রুপার দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী, আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে? ভারতে ফের করোনা সংক্রমণ, অন্ধ্রপ্রদেশে সতর্কতা জারি জনস্বার্থেই আইএমএফের নতুন কর্মসূচি: অর্থমন্ত্রী গোল সমান, তবু গোল্ডেন বুটে কেন এগিয়ে এমবাপ্পে? আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড? সেমিফাইনালে কাকে এগিয়ে রাখছে অপ্টা সুপারকম্পিউটার প্রাথমিক বৃত্তিতে উত্তীর্ণ ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী, জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক জানালেন ডা. শফিকুর রহমান শেষের ঝড়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, সামনে ইংল্যান্ড পাবনায় এনসিপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার দাবি হাওরে ডাকাতদের শেষ ওয়ার্নিং এমপি ফজলুর রহমানের, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

প্রাথমিক বৃত্তিতে উত্তীর্ণ ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী,

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে সরকার। এবারের পরীক্ষায় সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৮৯২ জন, যা মোট বৃত্তিপ্রাপ্তের ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রী রয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন, যা মোট বৃত্তিপ্রাপ্তের ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।

রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফলাফল ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, সৃজনশীলতা উৎসাহিত করা এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই পরীক্ষা শুধু মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেয় না, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত করে এবং জ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে ভূমিকা রাখে।

তিনি জানান, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে ৩২ হাজার ট্যালেন্টপুল এবং ৪৯ হাজার ৫০০টি সাধারণ বৃত্তি বরাদ্দ রাখা হয়। তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিগত কারণে চূড়ান্তভাবে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।

নীতিমালা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক নির্দিষ্টসংখ্যক বৃত্তি সংরক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও উপজেলাভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের পরীক্ষায় দেশের ৭৮ হাজার ৮১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ছিল ১৩ হাজার ২০৫টি।

মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী, যা মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর প্রায় ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন। উপস্থিতির হার ছিল ৬২ দশমিক ০১ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়, যেখানে উপস্থিতির হার ছিল ৮৪ দশমিক ১৬ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন এবং ছাত্রী ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।

বৃত্তিপ্রাপ্তদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩২ হাজার ৯৬৫ জনের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৬ হাজার ৫৯০ জন। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত ৪৬ হাজার ২৮১ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফলাফল প্রকাশের পর তা ধাপে ধাপে অনলাইনে আপলোড করা হচ্ছে। সার্ভারে অতিরিক্ত চাপের কারণে পুরো ফলাফল ওয়েবসাইটে দৃশ্যমান হতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ধৈর্য ধরে ফলাফল দেখার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করে। মোট অংশগ্রহণকারীর মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ সরকারি বিদ্যালয়ের এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাথমিক স্তরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বৃত্তি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে, যা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত