প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন শেষ চার দলের লড়াইয়ে পৌঁছে গেছে। দীর্ঘ এক মাসের উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবল বিশ্বের চার পরাশক্তি—আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন। এবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে একদিকে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও স্পেন। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লড়বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এই মহারণকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই নাটকীয়তা, আবেগ এবং অনিশ্চয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই ধারাবাহিকতায় আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও কঠিন প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকিট কেটে নেয়। দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া পরিসংখ্যান সংস্থা অপ্টা তাদের সুপারকম্পিউটারের মাধ্যমে সম্ভাব্য ফলাফলের পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে।
অপ্টার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল হতে যাচ্ছে পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি। দুই দলের শক্তির পার্থক্য খুবই সামান্য হলেও পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে ইংল্যান্ডকে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫০ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বিপরীতে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৪৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের সম্ভাবনার ব্যবধান এক শতাংশেরও কম, যা ম্যাচটির অনিশ্চয়তাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
শুধু ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাই নয়, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জয় পাওয়ার সম্ভাবনাতেও এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। অপ্টার মডেল অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৩৪ দশমিক ১০ শতাংশ। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ধরা হয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে দুই দলের শক্তির ভারসাম্য প্রায় সমান।
বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনার দিক থেকেও ইংল্যান্ডকে সামান্য এগিয়ে রেখেছে সুপারকম্পিউটার। পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ব্যবধান খুবই অল্প হলেও বিশ্লেষণ অনুযায়ী বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড।
তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। বিশ্বকাপের ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, কাগজে-কলমে পিছিয়ে থাকা দলই মাঠে চমক দেখিয়েছে। আর্জেন্টিনার বড় শক্তি তাদের অভিজ্ঞতা, বড় ম্যাচ খেলার মানসিকতা এবং লিওনেল মেসির নেতৃত্ব। নকআউট পর্বে দলটি ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরেছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে জয় তুলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দলটি মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ দিয়েছে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপে ধারাবাহিক ফুটবল খেলছে। শক্তিশালী রক্ষণ, কার্যকর মিডফিল্ড এবং দ্রুতগতির আক্রমণভাগ তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। টুর্নামেন্টজুড়ে দলটি তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। তাই অপ্টার বিশ্লেষণে তাদের সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচের ফল নির্ধারণে ছোট ছোট মুহূর্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি গোল, একটি ভুল কিংবা কোনো ব্যক্তিগত নৈপুণ্য পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। দুই দলেরই একাধিক ম্যাচজয়ী খেলোয়াড় থাকায় শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ফল নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন।
এদিকে অপর সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বকাপ রানার্সআপ ফ্রান্স এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। দুই সেমিফাইনাল মিলিয়ে বিশ্ব ফুটবল পাচ্ছে চার পরাশক্তির লড়াই। ফলে এবারের বিশ্বকাপের শেষ চার পর্বকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেমিফাইনাল হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।
সবশেষে বলা যায়, সুপারকম্পিউটারের পরিসংখ্যান ইংল্যান্ডকে সামান্য এগিয়ে রাখলেও বাস্তব লড়াই হবে মাঠে। আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা এবং ইংল্যান্ডের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স—এই দুইয়ের সংঘর্ষে কে শেষ পর্যন্ত ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে, সেই উত্তর মিলবে সেমিফাইনালের বাঁশি বাজলেই।