জবিতে পাঠকমেলার আয়োজন, বই পড়ার অভ্যাসই পারে গড়ে তুলতে আলোকিত সমাজ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫১ বার

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক প্রাণবন্ত ও অর্থবহ পাঠকসভা, যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বই পড়ার গুরুত্ব এবং এর প্রভাব ব্যক্তিজীবন ও সমাজ গঠনে। আয়োজনে ছিল আমার দেশ পাঠকমেলা, যা বইপ্রেমী তরুণ-তরুণীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পরিণত হয়েছিল এক অনন্য জ্ঞানচর্চার মঞ্চে। সভায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা, যাঁরা পুরো সময়জুড়ে মনোযোগ দিয়ে আলোচনা শোনেন এবং বইয়ের আবেদনকে নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে উপলব্ধি করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পাঠকমেলার সভাপতি ফাহিম হাসনাত এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আকরাম খান। আলোচনায় অংশ নেন সহসভাপতি আবু সায়েম, যুগ্ম সম্পাদক সোহানা চৌধুরী ও তাহসিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল বাশার সুমন, দপ্তর সম্পাদক হেনা শিকদার, সহ-দপ্তর সম্পাদক ঊর্মি আক্তার ঝিনুক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নুসরাত জাহান অর্পিতা, অর্থ সম্পাদক তানজিল মিয়া, সমাজসেবা সম্পাদক সেজু আক্তার এবং সাহিত্য সম্পাদক জয়া রানী পাল। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাহুল শেখ, ইফাত হাসান, সবুর কাজী ও অনিমা ফেরদৌসী।

আলোচকরা বইয়ের বহুমাত্রিক প্রভাব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন। সাধারণ সম্পাদক আকরাম খান বলেন, “জ্ঞানার্জন নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে বহুমাত্রিক চিন্তা করতে শেখায়, তার অনুসন্ধানী মনোভাব তৈরি করে, এবং সমাজের প্রতি তার দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।” তিনি আরও বলেন, বই হলো এমন এক শিক্ষক, যার কাছ থেকে প্রতিদিন শেখা যায় এবং যার কাছে প্রশ্ন করেও নিরাশ হতে হয় না।

সভাপতি ফাহিম হাসনাত বলেন, “জীবনের প্রতিটি বাঁকে বই হতে পারে একজন মানুষের সহচর। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিদিন মাত্র ২০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস কারও জীবনধারা বদলে দিতে পারে। পাঠই আলোর পথ দেখায়।” তিনি বইকে শুধুই তথ্য বা গল্পের বাহন হিসেবে না দেখে এটিকে একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, নৈতিকতা ও মানসিক পরিপক্বতা গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরেন।

সহসভাপতি আবু সায়েম আলোচনায় বলেন, “একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার নাগরিকদের পাঠ্যাভ্যাসের ওপর। বইয়ের পাতায় ছড়িয়ে থাকা আলোর পরশ শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতে নেতৃত্বে নিয়ে যেতে পারে।” তিনি প্রযুক্তির যুগে বইয়ের টেকসই ও গভীর প্রভাবের ওপর আলোকপাত করেন।

আল-আমিন বলেন, “শুধু পাঠের জন্য নয়, নিজের শেকড়, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সন্ধানে বই অনন্য এক বাহন। বাংলা সাহিত্যের অনন্য প্রতিভাদের পাঠ আমাদের আত্মপরিচয়কে দৃঢ় করে।” সাহিত্য পড়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সমাজবোধ তৈরি হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কার্যনির্বাহী সদস্য অনিমা ফেরদৌসী নারীর ক্ষমতায়নে বইয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে বলেন, “একটি বই একজন নারীর আত্মবিকাশের চাবিকাঠি হতে পারে। আমি যখন বই পড়তে শুরু করি, তখন নিজের ভেতরের সম্ভাবনাগুলো আবিষ্কার করতে পেরেছিলাম। বই নারীদের কণ্ঠস্বর জোরালো করে, আত্মবিশ্বাস দেয় এবং নেতৃত্বে যেতে উৎসাহিত করে।”

আলোচনা সভায় আরও উঠে আসে যে, বই পড়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যেমন তার অভ্যন্তরীণ জগত সমৃদ্ধ করতে পারেন, তেমনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশীদার হতে পারেন। শব্দভাণ্ডার, বাকপ্রতিভা, বিশ্লেষণক্ষমতা ও কল্পনাশক্তির বিকাশে বইয়ের অবদান অপরিসীম। আর এ কারণেই সভায় অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীরা বইয়ের সান্নিধ্যকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করার অঙ্গীকার করেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ পাঠক সভাটি প্রমাণ করে যে, বই শুধু জ্ঞানের উৎস নয়, এটি সমাজ গঠনের এক শক্তিশালী মাধ্যম। প্রযুক্তিনির্ভর একবিংশ শতাব্দীতেও বই পড়ার অভ্যাস বজায় রাখা ও নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করে তোলার কাজটি অত্যন্ত জরুরি। এমন আয়োজনগুলো কেবল ব্যক্তিগত বিকাশ নয়, একটি জ্ঞাননির্ভর মানবিক ও যুক্তিবাদী সমাজ বিনির্মাণেও বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত