ইরানকে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩২ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানকে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে ফেলার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারে ওয়াশিংটন।

বৃহস্পতিবার টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এমন মাত্রার অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হতে পারে, যা এর আগে বিশ্ব দেখেনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হবে ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করা।

বেসেন্ট জানান, আগামী সপ্তাহে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা আসতে পারে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে ইরানের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ সৃষ্টি এবং দেশটির বন্দরগুলোকে অবরোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধের কারণে ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি প্রবেশ কিংবা বের হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে এর প্রভাব ইরানের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

বেসেন্টের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ আরও কঠোর করার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এর আগে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছিল।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আমেরিকানদের জন্য তেল ও পেট্রলের দাম কম রাখা। অন্যদিকে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিকে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বেসেন্টের বর্তমান বক্তব্য তার মাত্র কয়েক দিন আগের অবস্থানের সঙ্গেও বৈপরীত্য তৈরি করেছে। গত ৪ আগস্ট সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে কয়েক দিনের মধ্যে একটি সমঝোতা হতে পারে।

ওই সময় তার বক্তব্যকে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল। এর পর ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে আসে।

তবে সর্বশেষ বক্তব্যে বেসেন্ট বরং ইরানের ওপর আরও ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ঘোষণা করে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরানের বন্দর, জ্বালানি বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে দেশটির অর্থনীতিতে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ বা নৌযান চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপরও চাপ পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হুমকি ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতকে শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও আরও জটিল করে তুলতে পারে। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনের ঘোষিত পদক্ষেপের ওপরই এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com