রাজশাহী সিটি নির্বাচন: মাঠে জামায়াত, অপেক্ষায় বিএনপি

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা অর্ধডজনের বেশি। দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজ নিজ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে এরই মধ্যে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর কাছে ২৮ হাজার ১৭৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এবার রাসিক মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাহাঙ্গীর।

দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জামায়াত এবার আগের তুলনায় ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনী মাঠে নামতে চায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎপরতার পাশাপাশি সংগঠন গোছানো ও সম্ভাব্য ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রস্তুতি চলছে। তবে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না করা পর্যন্ত প্রকাশ্য প্রচারণায় যাওয়ার বিষয়ে তারা সতর্ক থাকবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দলটির কোনো নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নিলে জামায়াত বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটের একটি অংশ জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে গিয়েছিল বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকলে বিএনপি সুবিধা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক মেয়র ও দলের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বর্তমান রাসিক প্রশাসক ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, নগর বিএনপির সহসভাপতি ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহীন শওকত, নগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত এবং নগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি।

রাজশাহী সিটি নির্বাচনের অতীত ফলও বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে পরাজিত হন বিএনপি-সমর্থিত মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি খায়রুজ্জামান লিটনকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আবারও লিটনের কাছে পরাজিত হন বুলবুল।

এই নির্বাচনী ইতিহাসের কারণে বিএনপির একটি অংশ বুলবুলকে এবারও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর তাঁকে রাসিক প্রশাসকের দায়িত্ব না দিয়ে বাংলাদেশ বন ও শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা না করা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপিতে পাঁচ থেকে সাতজন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে জানান তিনি।

নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনও দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই তাঁর সিদ্ধান্ত। তিনি নিজের পাশাপাশি দলের জন্যও সব সময় প্রস্তুত রয়েছেন।

অন্যদিকে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নগর বিএনপির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট মনে করেন, রাজশাহী সদর আসন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিজয়ী হতে পারবেন বলে আশাবাদী। তবে প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হলে নির্বাচনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহীন শওকত জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনীতির মাঠে সক্রিয়। অনেকেই তাঁকে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। তবে দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, সবাই মিলে তাঁর পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে জামায়াত প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দলটির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, গত ১১ আগস্ট দলীয় ফোরামে তাঁকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। বর্তমানে সাংগঠনিক পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে।

জাহাঙ্গীর বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে তাঁদের পরাজয়ের ব্যবধান খুব বেশি ছিল না। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে এই এলাকায় বিএনপির সঙ্গে ভোটের সমন্বয় করেছে জামায়াত। জোটের কারণে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনুর পক্ষে ভোট করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে এবার আলাদাভাবে নির্বাচন করতে গিয়ে অতীতের কিছু ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি গত মার্চেই মহানগর শাখার আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীকে রাসিক নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে। মোবাশ্বের আলী জানান, তাঁরা ইতোমধ্যে মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন এবং উঠান বৈঠক করছেন।

এখন পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও তিন দলের প্রস্তুতিতে রাজশাহীতে সম্ভাব্য সিটি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় দলটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর স্থানীয় নির্বাচনের সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করবে। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি আগে থেকেই প্রার্থী ঠিক করে মাঠে থাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতিতে তারা সাংগঠনিক সুবিধা পাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকবেন কি না, বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেবে এবং জামায়াত-এনসিপির প্রার্থীরা কতটা জনসমর্থন তৈরি করতে পারবেন—এসব প্রশ্নের উত্তরই রাজশাহী সিটি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট করবে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত