আদালতের বারান্দায় আসামিকে পিটিয়ে উলঙ্গ করার অভিযোগ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জ আদালতে তোলার সময় হত্যা মামলার এক আসামিকে মারধর করে উলঙ্গ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার আদালতের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক আন্দোলনের নেতারা। তবে পুলিশ উলঙ্গ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তাঁদের আদালতে নেওয়ার সময় শেখ সিফাত নামের এক আসামিকে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা মারধর করেন এবং তাঁকে উলঙ্গ করে ফেলার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে।

শুনানি শেষে মামলার সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার চার নারী আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।

১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার শেখ সিফাত, কদমরসুল এলাকার হোয়াইট জুম্মন, মো. সিয়াম, বারৈপাড়ার মাহবুব হোসেন মাহাফুজ, শাহী মসজিদের রিয়াদ, চিতাশালের ইরফান এবং চৌধুরী বাড়ির সিজান জিসান। তিন দিনের রিমান্ড পাওয়া চার নারী হলেন সালেহনগর এলাকার মিনারা, রুমা ও নাসিমা এবং শাহী মসজিদ এলাকার ইয়াসমিন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, গত ২০ আগস্ট রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হামলায় নিহত হন ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা পশ্চিম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ আল আমিন বুলবুল। তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। পরদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকাতেও অবরোধ করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর রাতভর অভিযান চালিয়ে বন্দরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই ব্যবসায়ী বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। পরে ২০ আগস্ট শেখ সিফাত ও তাঁর সহযোগীদের আসামি করে বন্দর থানায় মামলা করা হয়।

পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই মামলার পর থেকেই বুলবুলকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন আসামিরা। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেখ সিফাতের নেতৃত্বে তাঁর সহযোগীরা বুলবুলকে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন বন্দর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আগের ১৪টি মামলা রয়েছে। তাঁর সহযোগী হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে নয়টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণে আসামির ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ঢাকা দক্ষিণ বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, আদালতে আসামির ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মব সৃষ্টি করাও কাম্য নয়। তাঁর অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই আদালত প্রাঙ্গণেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে এত মামলা থাকার পরও পুলিশ তাঁকে আগে গ্রেপ্তার করেনি কেন। তাঁর মতে, আগে গ্রেপ্তার করা হলে বুলবুল হত্যার ঘটনা হয়তো এড়ানো যেত।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বিও আদালতে আসামির ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, আদালত প্রাঙ্গণে এমন ঘটনা বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

তবে হামলার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, আদালতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। নিহত বুলবুলের আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে আসামিকে উলঙ্গ করার ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সহসভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তারের পর সিফাতের কিছু অঙ্গভঙ্গির কারণে তাঁদের কর্মীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই ঘটনাটি ঘটে বলে তিনি জানান। তবে তাঁর ভাষ্য, এমন ঘটনা ঠিক হয়নি।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সির বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদেবার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে আদালত প্রাঙ্গণে আসামির ওপর হামলার অভিযোগ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত