গ্যাস সংকটে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ বাড়াতে চায় পিডিবি

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি সামাল দিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে বকেয়া বিল পরিশোধ না হলে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রগুলোর মালিকরা।

বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, পিডিবি তাদের কাছ থেকে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চেয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। বকেয়া পরিশোধ করা হলে এসব কেন্দ্র থেকে আরও প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

তিনি জানান, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে পিডিবির প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সরকার একসঙ্গে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে না পারলেও অন্তত দুই মাসের বিল রেখে বাকি পাওনা পরিশোধ করলে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণপত্র খুলে জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারবেন। এতে কেন্দ্রগুলো বাড়তি সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হবে।

গ্যাসের বিকল্প হিসেবে তেল

সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এবং এলএনজি সরবরাহে একাধিকবার বিঘ্ন ঘটায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। একই সময়ে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের পরিবর্তে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালে স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এতে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোরও কিছুটা সুযোগ তৈরি হবে। তবে গ্যাসের তুলনায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ায় সরকারের আর্থিক ব্যয়ও বাড়বে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি শিল্পে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হচ্ছে। এ কারণে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজন হতে পারে।

তবে দীর্ঘ সময় এভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলে পিডিবির আর্থিক দায় আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, সংকট মোকাবিলায় এটি সাময়িক ব্যবস্থা হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর ওপর নির্ভর করা যাবে না।

বকেয়া পরিশোধের দাবি

বিপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর শুধু বিদ্যুৎ বিলই বকেয়া নেই, পিডিবির আরোপ করা এলডি বা জরিমানার বিষয়ও রয়েছে। এসব সমস্যারও সমাধান করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে প্রস্তুত। কিন্তু জ্বালানি তেল কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে হবে। বকেয়া পরিশোধ না হলে নতুন করে জ্বালানি আমদানি করে কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানো উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

সক্ষমতার ১৯ শতাংশ ফার্নেস অয়েল

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ১৯ শতাংশ।

দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট বা মোট সক্ষমতার প্রায় ৪২ শতাংশ। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ৭ হাজার ২০৩ মেগাওয়াট। এ ছাড়া ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রের সক্ষমতা ৭৬৮ মেগাওয়াট, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ১ হাজার ১২৯ মেগাওয়াট এবং আমদানি করা বিদ্যুতের সক্ষমতা ২ হাজার ৬৯৬ মেগাওয়াট।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়িয়ে সাময়িকভাবে ঘাটতি মোকাবিলা করা যেতে পারে। তবে এর ফলে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি অর্থ ব্যয় হবে এবং পিডিবির বকেয়া আরও বাড়ার ঝুঁকি থাকবে।

তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি গ্যাস সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, তেলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিদ্যুৎ সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারে, কিন্তু জ্বালানি খাতের কাঠামোগত সমস্যার সমাধান করবে না।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত