আশুলিয়া-সাভারে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৬ বার
আশুলিয়া-সাভারে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার আশুলিয়া, সাভার ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তর কাজের কারণে এই সাময়িক সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। এর ফলে শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক গ্রাহকসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহককে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে আশুলিয়া রোড এলাকায় বিদ্যমান গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তর করা হবে। প্রকল্পের নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে এগিয়ে নেওয়ার জন্য পাইপলাইন স্থানান্তরের প্রয়োজন হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।

তিতাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ সময়ে নির্ধারিত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত এলাকার বাইরে আশপাশের কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি আশুলিয়া ও সাভারের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্নায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। একই সময়ে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায়ও গ্যাসনির্ভর কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে, তার মধ্যে রয়েছে আশুলিয়া বাজার থেকে বাইপাইল পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের এলাকা। এর সঙ্গে ঢাকা ইপিজেড, মালঞ্চ পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং বেক্সিমকো ডিআরএস বা বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স এলাকাও রয়েছে। শিল্প ও আবাসিক—দুই ধরনের স্থাপনা থাকা এসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।

এ ছাড়া কাশিমপুর, সারদাগঞ্জ, হাজী মার্কেট, শ্রীপুর, চন্দ্রা ও চন্দ্রা মোড় এলাকায়ও সাময়িকভাবে গ্যাস থাকবে না। নবীনগর, সাভার টাউন, সাভার ক্যান্টনমেন্ট, উলাইল ও ব্যাংক টাউন এলাকাও সরবরাহ বন্ধের আওতায় রয়েছে। সাভার রেডিও কলোনি, কলমা, দোসাইদ, কুমকুমারী, আক্রান ও চারাবাগ এলাকাতেও একই পরিস্থিতি থাকবে।

বড় আশুলিয়া, টঙ্গাবাড়ী, কাঠগড়া, জিরাবো, গাজীরচট, নয়াপাড়া এবং দেওয়ান ইদ্রিস সড়কের উভয় পাশের এলাকাতেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস। পাশাপাশি নয়ারহাট, বলিভদ্রপুর, পল্লীবিদ্যুৎ, ডেন্ডারবর, ভাদাইল ও লতিফপুর এলাকাও এই সাময়িক সরবরাহ বন্ধের আওতায় রয়েছে।

এর বাইরে মানিকগঞ্জ ও তৎসংলগ্ন এলাকাতেও গ্যাস সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তিতাস জানিয়েছে, নির্ধারিত এলাকার বাইরের আশপাশের কিছু এলাকায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তরের মতো অবকাঠামোগত কাজ সাধারণত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঢাকার সঙ্গে আশুলিয়া ও সাভারের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে বিদ্যমান ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সড়ক, উড়ালসড়ক বা অন্যান্য বড় অবকাঠামো নির্মাণের সময় বিদ্যমান গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য পরিষেবার লাইন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তিতাসের বিজ্ঞপ্তিতে গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তরের কারণ হিসেবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এলাকার কাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ ধরনের কাজের সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ বন্ধ রাখা এবং কাজ শেষ হওয়ার পর দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকলে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

আশুলিয়া ও সাভার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা, গুদাম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার বিস্তৃতি এই অঞ্চলে অনেক বেশি। ফলে গ্যাস সরবরাহের সাময়িক বিঘ্নও একটি বড়সংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। শিল্পকারখানাগুলোকে উৎপাদন পরিকল্পনা সামঞ্জস্য করতে হতে পারে এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরাসরি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বাড়তি প্রস্তুতি প্রয়োজন হতে পারে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরবরাহ বন্ধ থাকার সময়সীমা এবং আওতাভুক্ত এলাকার তথ্য জানানো হয়েছে, যাতে গ্রাহকেরা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়কে সামনে রেখে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজের পরিকল্পনা করা। বিশেষ করে রান্নাবান্না, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও গ্যাসনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতদের সাময়িক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টা শেষে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও পাইপলাইন স্থানান্তরের কাজের অগ্রগতি এবং কারিগরি পরিস্থিতির ওপর বাস্তব পরিস্থিতি নির্ভর করবে। তাই গ্রাহকদের তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তির প্রতি নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন ও নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইনসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি অবকাঠামো স্থানান্তরের বিষয়টি এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাময়িক ভোগান্তির মধ্য দিয়ে হলেও এসব কাজ নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা গেলে ভবিষ্যতে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থায়ী অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে গ্রাহকের ভোগান্তি কমানো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত