রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রবাসী নেতার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রবাসী নেতার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান নিউ হোপ গ্লোবালের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই। বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন, সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং দেশের অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।

সাক্ষাতে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটি নেতা, জননীতি বিশ্লেষক ও সমাজ সংগঠক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রবাসীদের সম্ভাব্য অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ড. ফয়েজ উদ্দিন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর মধ্যেই নিজেদের অবদান সীমাবদ্ধ না রেখে অর্জিত জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা, বিনিয়োগ সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে দেশের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

বঙ্গভবনের ওই সাক্ষাতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরও টেকসই করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় উঠে আসে, দেশের উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।

ড. ফয়েজ উদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করছেন। তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।

বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ও জননীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ড. ফয়েজ উদ্দিন বাংলাদেশের কল্যাণমুখী নীতি প্রণয়নে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার মতে, প্রবাসীদের দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে দেশের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সমন্বয় করা গেলে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে নতুন ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ড. ফয়েজ উদ্দিনের দীর্ঘদিনের প্রবাসী কমিউনিটি কার্যক্রম এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তার ভূমিকার প্রশংসা করেন বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে তার আগ্রহ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে তার বক্তব্যের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসীদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে উন্নয়ন সহযোগিতার অংশ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তা দেশে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সামাজিক উদ্যোগে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

ড. ফয়েজ উদ্দিনের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের সম্পর্ককে শুধু আবেগ ও পারিবারিক বন্ধনের জায়গায় সীমাবদ্ধ না রেখে দায়িত্ব ও অবদানের অংশীদারত্বে রূপ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে বিভিন্নভাবে অবদান রাখার সক্ষমতা রাখেন এবং সেই সক্ষমতাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

সাক্ষাৎ শেষে ড. ফয়েজ উদ্দিন রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সময়, আন্তরিকতা ও সৌজন্যের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ককে তিনি শুধু আবেগের সম্পর্ক হিসেবে দেখেন না; বরং দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার দায়িত্ব হিসেবেও দেখেন। ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্জিত জ্ঞান ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের জন্য সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নিউ হোপ গ্লোবাল যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক সংহতি, শিক্ষা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তায় কাজ করার কথা জানায়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ড. ফয়েজ উদ্দিন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি বাংলাদেশে সুশাসন, জননীতি, সামাজিক উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা নিয়ে মতামত দিয়েছেন।

ড. ফয়েজ উদ্দিনকে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখায় তাকে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার ও জননীতি বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১২ সালে তাকে মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার বা এমবিই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল বলেও বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। তার জনসম্পৃক্ততা ও কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই স্বীকৃতির সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি দেশে ব্যবসা, শিল্প, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে বিনিয়োগ করে আসছেন। তবে তাদের পেশাগত দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন এবং জনসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক বিনিয়োগ নয়, জ্ঞান ও দক্ষতা স্থানান্তরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশগুলোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার পরিচালনা, ডিজিটাল সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিক সেবার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে হলে প্রয়োজন কার্যকর সমন্বয়, স্বচ্ছ কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতের আলোচনায় সরাসরি কোনো নতুন প্রকল্প, চুক্তি বা সরকারি সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং দেশের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। ফলে এ সাক্ষাতকে মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে একটি মতবিনিময় হিসেবে দেখা যায়।

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী দেশের জন্য একটি বড় মানবসম্পদ। কেউ প্রযুক্তিতে, কেউ চিকিৎসায়, কেউ প্রশাসনে, কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যে আবার কেউ শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। তাদের এই বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতাকে দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠলে রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হতে পারে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ড. ফয়েজ উদ্দিনের সাক্ষাতে সেই সম্ভাবনার কথাই নতুন করে সামনে এসেছে। আলোচনায় সুশাসন, জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মতো বিষয় উঠে আসায় ভবিষ্যতে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে নীতিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

সবশেষে ড. ফয়েজ উদ্দিন আশা প্রকাশ করেছেন, দেশের মানুষের কল্যাণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ তৈরি হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ ধরনের মতবিনিময় সেই বৃহত্তর সহযোগিতার সম্ভাব্য পথগুলো নিয়ে আলোচনার একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত