এক গানের জন্য ২০০ বার কণ্ঠ দিলেন অরিজিৎ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৪ বার
এক গানের জন্য ২০০ বার কণ্ঠ দিলেন অরিজিৎ

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতীয় সংগীতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠে আবেগের গভীরতা শ্রোতাদের কাছে নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এবার একটি গান রেকর্ড করতে গিয়ে তাঁর দেওয়া টেকের সংখ্যা ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। নিতেশ তিওয়ারির বহুল আলোচিত মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এর নতুন গান ‘জয় জয় রাম’ প্রকাশের পরই গানটি নিয়ে শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে গানটির রেকর্ডিংয়ের সময় অরিজিৎ সিংয়ের প্রায় ২০০ বার টেক দেওয়ার ঘটনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ‘জয় জয় রাম’ গানটি রেকর্ড করার সময় অরিজিৎ গানের আবেগ ও ভক্তিমূলক অনুভূতিকে যথাযথভাবে তুলে ধরার বিষয়ে অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। একটি সূত্রের দাবি, রেকর্ডিংয়ের সময় তিনি গানের প্রতিটি লাইন ও শব্দের আবেগকে ভিন্নভাবে অনুভব করার চেষ্টা করেন। সেই কারণেই একের পর এক টেক দিতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত টেকের সংখ্যা প্রায় ২০০-তে পৌঁছায়।

গান রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে একাধিক টেক দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। শিল্পী, সুরকার ও সংগীত প্রযোজকেরা কাঙ্ক্ষিত আবেগ, উচ্চারণ, স্বর, নিয়ন্ত্রণ এবং সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে একই অংশ একাধিকবার রেকর্ড করতে পারেন। তবে একটি গানকে ঘিরে এত বিপুলসংখ্যক টেক দেওয়ার ঘটনা অরিজিৎ সিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। কারণ গানটির সঙ্গে কেবল সংগীতের বিষয়টি জড়িত নয়, এর সঙ্গে রয়েছে ধর্মীয় আবেগ ও চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃশ্যের সম্পর্ক।

জানা গেছে, ‘জয় জয় রাম’ গানটিতে অরিজিৎ সিংয়ের পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল। গানটির সুর করেছেন অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক এ আর রহমান। গানের কথা লিখেছেন কবি ও গীতিকার ড. কুমার বিশ্বাস। প্রচলিত ‘জয় সিয়া রাম’ ভক্তিগীতির আবহকে নতুন সংগীতায়োজন ও চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়েছে গানটিতে। ফলে গানটির কণ্ঠ, সুর, কথা এবং দৃশ্যায়ন—সবকিছু মিলিয়ে নির্মাতারা একটি বিশেষ আবহ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।

গানটির দৃশ্যায়নেও রয়েছে চলচ্চিত্রটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে শ্রীরামের চরিত্রে অভিনয় করা রণবীর কাপুর এবং সীতার চরিত্রে থাকা সাই পল্লবীর শুভ পরিণয়ের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। ভক্তিমূলক আবহের সঙ্গে রাম ও সীতার সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে মিলিয়ে উপস্থাপন করায় গানটি প্রকাশের পর থেকেই দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

অরিজিৎ সিংয়ের জন্য ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর সাম্প্রতিক ক্যারিয়ার পরিবর্তনের কারণে। সিনেমায় নিয়মিত প্লেব্যাক থেকে বিরতি নেওয়ার পরও তাঁর কণ্ঠের জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং নতুন কোনো গান বা তাঁর পুরোনো কোনো পরিবেশনা প্রকাশ্যে এলেই শ্রোতাদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ দেখা যায়। ফলে ‘জয় জয় রাম’-এর মতো একটি বড় চলচ্চিত্রের গানে তাঁর অংশগ্রহণ এবং রেকর্ডিংয়ের পেছনের এই গল্প স্বাভাবিকভাবেই সংগীতপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

একটি গানের জন্য প্রায় ২০০ টেক দেওয়ার বিষয়টি শুধু সংখ্যার দিক থেকে বিস্ময়কর নয়, এর সঙ্গে একজন শিল্পীর কাজের প্রতি মনোযোগের বিষয়টিও সামনে আসে। একটি পরিবেশনায় শ্রোতারা কয়েক মিনিটের গান শুনলেও তার পেছনে অনেক সময় দীর্ঘ প্রস্তুতি, বারবার অনুশীলন এবং রেকর্ডিংয়ের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠশিল্পীকে শুধু সুর ঠিক রাখলেই হয় না, পর্দায় অভিনয় করা চরিত্রের আবেগের সঙ্গেও কণ্ঠকে সামঞ্জস্য করতে হয়। ‘জয় জয় রাম’-এর ক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরিজিৎ রেকর্ডিংয়ের সময় ভক্তির আবেগে এতটাই নিমগ্ন হয়ে পড়েছিলেন যে প্রতিটি টেকে তিনি নতুনভাবে গানটির অনুভূতি প্রকাশের চেষ্টা করছিলেন। তাঁর কাছে রেকর্ডিংটি কেবল নির্ধারিত একটি গান গাওয়ার কাজ ছিল না; বরং গানের কথার আবেগ ও আধ্যাত্মিক অনুভূতিকে কণ্ঠের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার একটি সুযোগ হয়ে উঠেছিল। এ কারণেই তিনি একের পর এক টেক দিতে থাকেন বলে সূত্রটি দাবি করেছে।

এদিকে ‘রামায়ণ’ চলচ্চিত্রটি নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় বাজেটের প্রকল্প হিসেবে আলোচিত এই চলচ্চিত্র নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকল্পটির বাজেট প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এত বড় বাজেট, মহাকাব্যিক গল্প এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের পরিচিত তারকাদের অংশগ্রহণের কারণে সিনেমাটি মুক্তির আগেই দর্শকদের আলোচনায় রয়েছে।

চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন রণবীর কাপুর ও সাই পল্লবী। রামায়ণের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রাবণের ভূমিকায় রয়েছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা যশ। এছাড়া সানি দেওল, রবি দুবে, অরুণ গোভিল, লারা দত্ত, কাজল আগরওয়াল, রাকুল প্রীত সিং এবং বিবেক ওবেরয়সহ আরও অনেক পরিচিত অভিনয়শিল্পী এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিশাল তারকাবহর এবং প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাণ পরিকল্পনার কারণে ছবিটিকে ঘিরে প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে।

নির্মাতাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘রামায়ণ’ দুই খণ্ডে মুক্তি পাবে। প্রথম পর্ব ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে। দ্বিতীয় পর্ব মুক্তি পাওয়ার কথা ২০২৭ সালের দীপাবলিতে। অর্থাৎ প্রথম পর্বের মুক্তির আগেই চলচ্চিত্রটির সংগীত ও বিভিন্ন প্রচারসামগ্রী নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

‘জয় জয় রাম’ সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠ, শ্রেয়া ঘোষালের অংশগ্রহণ, এ আর রহমানের সুর এবং কুমার বিশ্বাসের লেখা গানটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। এর সঙ্গে রণবীর কাপুর ও সাই পল্লবীর পর্দার উপস্থিতি যুক্ত হওয়ায় গানটি চলচ্চিত্রের প্রচারণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

একজন শিল্পীর জন্য একটি গান কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, অরিজিৎ সিংয়ের প্রায় ২০০ টেক দেওয়ার ঘটনা তারই একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। শ্রোতারা শেষ পর্যন্ত একটি পরিপূর্ণ পরিবেশনা শুনবেন, কিন্তু সেই কয়েক মিনিটের পেছনে কতবার কণ্ঠ দিতে হয়েছে, কতবার আবেগকে নতুনভাবে ধারণ করতে হয়েছে—সেটি সাধারণত শ্রোতাদের চোখের আড়ালেই থেকে যায়। ‘জয় জয় রাম’-এর ক্ষেত্রে সেই অদৃশ্য পরিশ্রমের গল্পই এখন গানের আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত