নৌকা স্থগিত রেখে ১২০ প্রতীক চূড়ান্ত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৩ বার
নৌকা স্থগিত রেখে ১২০ প্রতীক চূড়ান্ত

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য ১২০টি নির্বাচনী প্রতীক চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত প্রতীক তালিকায় বহুল পরিচিত ‘নৌকা’ প্রতীক রাখা হলেও সেটিকে স্পষ্টভাবে ‘স্থগিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নৌকা ব্যবহার করা যাবে না।

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি সংশোধনের মাধ্যমে নতুন এই প্রতীক তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সেপ্টেম্বর মাসে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং তা বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। সংশোধনের ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে কমিশনের জন্য একটি নতুন কাঠামো কার্যকর হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, Representation of the People Order, 1972-এর Article 94-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৯-এর উপবিধি (১) সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে একটি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যাবে। অর্থাৎ তালিকায় কোনো প্রতীক থাকলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রার্থীর জন্য বরাদ্দযোগ্য হবে না; যেসব প্রতীক স্থগিত রয়েছে, সেগুলো বরাদ্দের বাইরে থাকবে।

নতুন তালিকায় মোট ১২০টি প্রতীক রাখা হয়েছে। এসব প্রতীকের মধ্যে রয়েছে আনারস, আপেল, আম, আলমিরা, ঈগল, উট, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কবুতর, কম্পিউটার, কলম, কলস, কাস্তে, কাপ-পিরিচ, কাঁচি, কাঁঠাল, ঘোড়া, চশমা, চাকা, চাবি, চিংড়ি, চেয়ার, ছাতা, জাহাজ, টর্চ লাইট, টেলিভিশন, ট্রাক, ট্র্যাক্টর, ডাব, তারা, বই, বক, বটগাছ, বাইসাইকেল, বাঘ, রকেট, রিকশা, লাঙল, লিচু, সিংহ, সিঁড়ি, সূর্যমুখী ফুল, সেলাই মেশিন, সোনালি আঁশ, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হেলিকপ্টার ও হ্যান্ডশেকসহ বিভিন্ন পরিচিত প্রতীক। তালিকায় ‘না’ প্রতীকও যুক্ত করা হয়েছে।

প্রতীক তালিকার ৬৫ নম্বরে থাকা ‘নৌকা’র পাশে ‘স্থগিত’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে মোট প্রতীকের সংখ্যা ১২০ হলেও কার্যত নৌকা বর্তমানে প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দযোগ্য প্রতীকের তালিকায় থাকছে না। কমিশনের সংশোধিত বিধান অনুসারেই নির্বাচনসংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় ‘না’ প্রতীক যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও নতুন বিধিমালার একটি উল্লেখযোগ্য দিক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনী আসনে একক প্রার্থী থাকলে ভোটারদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার জন্য ব্যালটে ‘না’ প্রতীক রাখার বিধান করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একক হলে ভোটাররা কেবল প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার পরিবর্তে প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করার মতও প্রকাশ করতে পারবেন—এমন ব্যবস্থার সুযোগ রাখা হয়েছে সংশোধিত বিধানে।

নির্বাচনী প্রতীকের পাশাপাশি সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচন পরিচালনার আরও কিছু বিষয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন এবং প্রার্থী-সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের কিছু নিয়মের সংশোধনের কথা উঠে এসেছে। নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীর নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি তাঁর নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রার্থীর তথ্যসংক্রান্ত বিধানেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আদালত কর্তৃক অভিযোগ গঠন করা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি সংশোধিত বিধানে স্পষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার বিষয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রতীক সাধারণ ভোটারের কাছে একজন প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের পরিচিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে বিভিন্ন প্রতীক দীর্ঘদিন ধরে দল, প্রার্থী ও রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। ফলে প্রতীক তালিকায় কোনো পরিবর্তন এলে সেটি কেবল প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না; নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটারদের পরিচিতি এবং প্রার্থীদের প্রচার কৌশলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে নৌকা প্রতীকটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে বহুল পরিচিত একটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। সংশোধিত তালিকায় প্রতীকটি সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে ‘স্থগিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে বর্তমান বিধান অনুযায়ী প্রতীকটির অবস্থান তালিকায় থাকলেও তা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এর অবস্থান কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক তালিকার এই পরিবর্তন তাই নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা চূড়ান্তকরণ এবং পরবর্তী সময়ে প্রতীক বরাদ্দের ধাপগুলোতে সংশোধিত বিধিমালার বিধান অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রার্থী ও ভোটার—উভয় পক্ষের কাছেই নতুন প্রতীক তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন হবে।

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত করা ১২০ প্রতীকের তালিকা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিতে একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। একদিকে প্রচলিত ও পরিচিত বিভিন্ন প্রতীক তালিকায় রাখা হয়েছে, অন্যদিকে নৌকা প্রতীককে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং একক প্রার্থিতার ক্ষেত্রে ভোটারদের মতামত প্রকাশের জন্য ‘না’ প্রতীকের বিধান যুক্ত হয়েছে। এসব পরিবর্তনের বাস্তব প্রয়োগ নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত