উসকানিতে না জড়িয়ে লংমার্চ সফল করার আহ্বান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ বার
উসকানিতে না জড়িয়ে লংমার্চ সফল করার আহ্বান

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো ধরনের উসকানি বা উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও তাতে পা না দিয়ে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে লংমার্চের প্রস্তুতি, কর্মসূচির রুট, নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগর শাখাগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর আগের দিনও লংমার্চ বাস্তবায়ন নিয়ে দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর সকাল ৮টার দিকে রংপুরের উদ্দেশে গাড়িবহর যাত্রা করার কথা রয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ এলাকা, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীসহ কয়েকটি স্থানে পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবশেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করার কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

লংমার্চের গাড়িবহরে বিপুলসংখ্যক যানবাহন যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, এক হাজারের বেশি গাড়ি বহরে অংশ নিতে পারে। অংশগ্রহণকারী যানবাহনগুলোর চলাচল ও দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ পথের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সুবিধা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

লংমার্চকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়ও প্রস্তুতি চলছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মসূচির পথে বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেবেন। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ও যানবাহনের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে অযথা দুর্ভোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। গোলাম পরওয়ার কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, চালক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

লংমার্চের শান্তিপূর্ণ চরিত্র বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর বা অস্থিতিশীলতার সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদেরও কারও উসকানিতে সাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রতিশোধের পরিবর্তে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, কারও কারণে কোনো অংশগ্রহণকারী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বা শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর মতে, একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির সফলতা শুধু জনসমাগমের ওপর নির্ভর করে না; বরং শৃঙ্খলা, সংযম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এদিকে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিটি নতুন করে যুক্ত হয়েছে। গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই দাবি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে রাজনৈতিক ও জাতীয় বিভিন্ন দাবির পাশাপাশি তিস্তা নদী ও উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়টি এবার লংমার্চের অন্যতম আলোচিত দাবি হিসেবে সামনে এসেছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো দ্বিধা বা আশঙ্কা থাকলে তা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার। তিনি এ বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলসহ প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখেও লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আগের কর্মসূচিতে দেশবাসী ও গণমাধ্যমের কাছ থেকে যে সহযোগিতা পাওয়া গেছে, এবারও তারা একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন। লংমার্চের প্রস্তুতি ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকেও বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে। গোলাম পরওয়ার সরকার, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও ট্রাফিক বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ পথের এই কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয় প্রয়োজন।

গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। লংমার্চের গাড়িবহরের সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা থেকে সংবাদ সংগ্রহ করবেন বলে জানিয়ে তাদের চলাচলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। গণমাধ্যমের গাড়িগুলো যাতে বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়েও আয়োজকদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ঘোষিত বিভিন্ন দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়। এসব দাবিকে সামনে রেখে ১৯ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টিও এবার আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ সড়কপথে বড় গাড়িবহর চলাচল করলে স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে আয়োজকদের পাশাপাশি প্রশাসনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হবে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা। গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে তাই রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি পথচারী, চালক, যাত্রী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সবশেষে ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তিনি কর্মসূচিকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের উসকানি এড়িয়ে চলার ওপর জোর দিয়েছেন। এখন এই দীর্ঘ পথের কর্মসূচি কীভাবে সম্পন্ন হয়, সেটিই সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের নজরে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত