বরিশালে পুকুরে বাস, প্রাণ গেল এক যাত্রীর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮ বার
বরিশালে পুকুরে বাস, প্রাণ গেল এক যাত্রীর

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বরিশাল-স্বরূপকাঠি মহাসড়কের বাবুগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার মাধবপাশা এলাকার গজালিয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল মালেক। তাঁর বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর। তিনি বানারীপাড়া উপজেলার ভাইসারী ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, স্বরূপকাঠি থেকে বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বাসটি সকালে মাধবপাশার গজালিয়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বাসের ভেতরে যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ফলে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর বাসের ভেতরে আর কোনো যাত্রী আটকা আছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পুকুরে বাস পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাও সেখানে পৌঁছান। পানিতে নিমজ্জিত বাসটি উদ্ধারের পাশাপাশি সম্ভাব্য আটকে পড়া যাত্রীদের সন্ধানে তৎপরতা চালানো হয়।

প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা বলা হলেও ঠিক কী কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাসের গতি, সড়কের পরিস্থিতি, চালকের শারীরিক অবস্থা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।

বরিশাল-স্বরূপকাঠি মহাসড়কটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এ পথে বিভিন্ন ধরনের যাত্রীবাহী যান চলাচল করে। বরিশাল ও আশপাশের উপজেলা থেকে স্বরূপকাঠিসহ পিরোজপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার খবর দ্রুতই স্থানীয় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি। একইভাবে আহত ব্যক্তির সংখ্যা সম্পর্কেও পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পুকুরে পড়ে যাওয়ার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পানিতে পড়ে যাওয়ায় বাসের ভেতরের পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। নারী ও শিশুসহ একাধিক যাত্রী বাসে ছিলেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

দুর্ঘটনায় আব্দুল মালেকের মৃত্যু স্থানীয়ভাবে শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে আকস্মিক এই দুর্ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই গভীর আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের মতো সড়কপথে যাত্রা করলেও একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে মুহূর্তের মধ্যে শোকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনা দীর্ঘদিনের একটি উদ্বেগের বিষয়। চালকের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, সড়কের অবস্থা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার মতো বিভিন্ন কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রতিটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রকৃত কারণ আলাদাভাবে তদন্ত করে নির্ধারণ করা জরুরি। বরিশালের এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কারণ নির্ধারণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে মহাসড়কের পাশে থাকা পুকুর, খাল কিংবা জলাশয়ের কারণে কোনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারালে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। পানিতে যানবাহন পড়ে গেলে ভেতরে থাকা যাত্রীদের দ্রুত বের করে আনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে। এ কারণে এমন দুর্ঘটনায় স্থানীয় মানুষের তাৎক্ষণিক সহযোগিতার পাশাপাশি দ্রুত প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ঘটনাস্থলে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবারের দুর্ঘটনার পর এখন মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাসটি সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার এবং ভেতরে আর কোনো যাত্রী বা হতাহত ব্যক্তি রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করার দিকে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষেরও বাসটির অবস্থা, চালকের দায়িত্ব পালনের পরিস্থিতি এবং দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা অব্যবস্থাপনা থাকলে তা শনাক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

একজন মানুষের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি। একটি বাসে থাকা প্রতিটি যাত্রীর নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর অধিকার রয়েছে। তাই চালকদের দায়িত্বশীলতা, যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সড়কে সতর্কতা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বরিশালের মাধবপাশায় বাস পুকুরে পড়ে আব্দুল মালেকের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে দুর্ঘটনায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে। পাশাপাশি কী কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের পুকুরে পড়ে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তরও তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত