তিন দাবি মানলে ঢাকায় ককটেল বন্ধ হবে: পাটওয়ারী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৬ বার
তিন দাবি মানলে ঢাকায় ককটেল বন্ধ হবে: পাটওয়ারী

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, তাদের উত্থাপিত তিনটি দাবি সরকার মেনে নিলে ঢাকার রাজপথে আর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটবে না। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর নেভিগলিতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক দাবিগুলো। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তারা রাজপথে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার এসব দাবি বাস্তবায়ন না করায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা আর ঘটবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তাঁর এই মন্তব্য আসে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির আয়োজিত একটি বিক্ষোভ মিছিলের পর। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে বক্তব্য ও সমাবেশের পর মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পরীবাগ এলাকার দিকে যায় এবং পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়। একই কর্মসূচিতে তিনি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নীতিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর জোর দেন।

ককটেল বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে পাটওয়ারীর বক্তব্যের ব্যাখ্যাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি তিনি ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে মূলত বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দলটির কর্মীদের রাজপথে এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ কমবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

এদিকে ১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো মিছিল বা কর্মসূচি পালন করে না—এমন অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর দাবি, এ অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, এর আগের দিনও দুটি মিছিল হয়েছে। আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এবং ১১ দলীয় জোট এ অবস্থানই তুলে ধরছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন’ এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচারও গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে উঠে আসে। তিনি বলেন, এসব দাবিতে তারা রাজপথে অবস্থান করছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সংস্কার, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচারকে ঘিরে সরকারের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে।

রাজধানীতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন সরকারের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করছে। এনসিপির সাম্প্রতিক কর্মসূচিও সেই প্রতিবাদী ধারার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ককটেল বিস্ফোরণ, মিছিল, পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সংঘাতের আশঙ্কা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল এবং নগরজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের পাশাপাশি এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মন্তব্যে তাই একদিকে যেমন রাজনৈতিক দাবিগুলোর বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ এসেছে, অন্যদিকে রাজপথের সহিংসতা বন্ধের প্রশ্নও সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান এবং সংস্কারের দাবি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই রাজপথে সহিংস পরিস্থিতি কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে এসব দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান নিয়ে সামনে আরও আলোচনা ও রাজনৈতিক দর-কষাকষির প্রয়োজন হতে পারে।

এনসিপির এই কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ ও মিছিলের মধ্য দিয়ে তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে সরকারের জ্বালানি নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যও দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ‘তিন দাবি মানলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না’ মন্তব্যটি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। তাঁর বক্তব্যে যে তিনটি দাবি সামনে এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অবস্থান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক মতপার্থক্য আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে রাজধানীর মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে রাজনৈতিক কর্মসূচি যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়, সেটিও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত