ব্যাংক খাতের লুটপাট ও অর্থপাচারের নতুন তালিকা: অতীতের দায়, বর্তমানের চ্যালেঞ্জ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮০ বার

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি। সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বর্তমান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোতে ঋণের নামে যে লুটপাট হয়েছে, তা নজিরবিহীন। তাঁর দাবি, এই সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা এখন খেলাপি ঋণে রূপ নিয়েছে। ঋণ আদায় না হওয়ার পেছনে সরকারের তৎকালীন নীতিনির্ধারক এবং ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব খাটানোকে তিনি মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ড. সালেহউদ্দিন উদাহরণ হিসেবে জানান, দেশের একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকে মোট ঋণের ৯৫ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি। তিনি অভিযোগ করেন, সেই ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল ঋণের পুরো অর্থ নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।

অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, নতুন করে ১০১ জন অর্থপাচারকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশে পাচার করেছেন। সরকার ইতোমধ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্য কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর আগে তদন্তে উঠে এসেছিল, ১১ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি এককভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশের আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল অর্থপাচার ও খেলাপি ঋণের ঘটনা শুধু ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতাকেই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতিকেও বিপদে ফেলছে। অর্থনীতি যখন মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাওয়া দেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সরকার দাবি করছে, অতীতের লুটপাটের দায়ীদের শাস্তি ও অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং নতুন করে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু মামলা বা নাম প্রকাশ করলেই হবে না, বরং অর্থপাচার প্রতিরোধে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, ঋণ প্রদানে কঠোর নীতিমালা, এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হতে পারে স্থায়ী সমাধান।

জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে, পূর্বের অভিযুক্তদের বিচার ও অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া কতদূর এগোবে, এবং নতুন করে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে। কারণ, অতীতে বহুবার অর্থপাচারের ঘটনা প্রকাশ পেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইনগত প্রক্রিয়া ধীরগতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রত্যাশিত ফল আসেনি।

এখন দেখার বিষয়, সরকারের চলমান ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে এই দীর্ঘদিনের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের সংস্কৃতিকে ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয় কি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত