২৭ আগস্ট ২০২৫| নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রতিষ্ঠানটির বসুন্ধরা শাখার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। বরখাস্তের কারণ হিসেবে হিজাব পরার বিষয়কে সামনে আনা হলেও শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, এটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং শিক্ষককে পুনর্বহাল করতে হবে।
বুধবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মিছিল করে ক্যাম্পাসের আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। আন্দোলনকারীরা শিক্ষকের পুনর্বহাল, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপপ্রচারকারীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালান।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষক ছাত্রীদের ড্রেসকোড মানতে বলেছিলেন, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থী আনিসা করিম বলেন, “আমি ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছি। শুধু নাহার আপা নয়, অন্যান্য শিক্ষকেরাও কখনো হিজাব নিয়ে ছাত্রীদের উদ্দেশে অভিযোগ করেননি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং যেসব গণমাধ্যমসহ ব্যক্তি মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে শিক্ষকের মানহানি করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিচার চাই।”

অভিযুক্ত শিক্ষক প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তিনি এমন কোনো কাজ করেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্লাসে ২২ জন ছাত্রী হিজাব পরে উপস্থিত ছিলেন না, বরং ৯–১১ জন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের হিজাব কীভাবে পড়তে হবে, সে নিয়ম জানিয়ে ছিলেন।
এই ঘটনায় শিক্ষককে বরখাস্তের নোটিশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। শিক্ষককে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটিও কাজ করছে। ঘটনার তদন্ত শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।