প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন থেকে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে পরিচালিত হবে বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার মন্ত্রণালয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আনতে যাচ্ছে।
সভায় জানানো হয়, এ লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি শিক্ষা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান বিভিন্ন অর্ডিন্যান্স ও বিধিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করবে। একইসঙ্গে নতুন ধারা ও উপধারা যুক্ত করে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার নানা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ। বিভিন্ন সময়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধান, সুপারিনটেনডেন্ট, সহকারী সুপারসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়ে নানা সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান এবং একটি সুষ্ঠু প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্যই এনটিআরসিএকে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব ওঠে।
এর আগে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের তৎকালীন সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের কাছে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। সেই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান, সহকারী প্রধান, সুপারিনটেনডেন্ট, সহকারী সুপার এবং অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে এনটিআরসিএ আইন সংশোধন করে প্রয়োজনীয় ধারা সংযোজন করা জরুরি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান এবং অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। সংসদ কার্যকর না থাকলে অর্ডিন্যান্স জারি করেও এই পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে ওই প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বুধবারের বৈঠকে এসব সুপারিশকে ভিত্তি করেই চূড়ান্তভাবে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করছে, এনটিআরসিএর অধীনে নিয়োগ প্রক্রিয়া গেলে প্রার্থী নির্বাচনে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী হস্তক্ষেপ কমবে, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষা খাতের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।
নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আইন ও বিধিমালা সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাখাতের নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বহুলাংশে বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের অবসান ঘটবে।