প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ মঙ্গলবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসা খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি নির্দেশনা জারি করেছে। একদিকে, বেসরকারি বিদ্যালয় ও কলেজে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কড়া সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের এমপিও আবেদনের সময় একদিন বাড়ানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ১৮ নভেম্বর ২০২৪-এর প্রজ্ঞাপনের আলোকে যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে বা চলছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে সংশোধিত প্রবিধানমালা ২০২৪ অনুযায়ী আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিয়মিত কমিটি গঠন করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে এডহক কমিটি এখনও গঠিত হয়নি, তাদেরকে ১৫ দিনের মধ্যে এডহক কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। সব এডহক কমিটি আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বিলুপ্ত হবে। কমিটি গঠনে ব্যর্থতা পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়ী থাকবেন এবং বিধিমতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এ নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত করা, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিত কমিটি কার্যকর করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন কমিটি গঠন না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দায়িত্বকে জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মেমিস সেলের আওতাধীন এমপিও আবেদনের সময়ও একদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে নির্ধারিত শেষ সময় ছিল ৮ সেপ্টেম্বর, কিন্তু প্রযুক্তিগত জটিলতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয়তার কারণে আবেদন করার সময় ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষকদের এমপিও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল আবেদন সুষ্ঠুভাবে ফরওয়ার্ড করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নির্দেশনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের জন্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনায় স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে এমপিও আবেদনের সময় বৃদ্ধির ফলে প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক কারণে যে শিক্ষকেরা আবেদন করতে পারছিলেন না, তারা সুযোগ পাবেন নিজেদের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক উভয়ের স্বার্থ রক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।