ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ২০ জন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭৪ বার
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ২০ জন

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চরপ্রসন্নদী এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন এবং দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকায় সড়ক ব্যবহাকারীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘গোল্ডেন লাইন’ পরিবহনের একটি বাস চরপ্রসন্নদী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘আমাদের পরিবহন’ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার ফলে বাস দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ ক্লিনিকে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগের অবস্থা স্থিতিশীল বলে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। তবে, গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওই অংশে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়ক ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা পড়েন। পরে দুপুর ১২টার দিকে আহত বাস দুটি সরিয়ে নেয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার সময় রাস্তার সেই অংশে চলাচলরত অন্যান্য যানবাহনের জন্য পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যাত্রী ও চালকরা জানিয়েছেন, বাসগুলো নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মহাসড়কগুলিতে বাসের অতি গতিবেগ, দূর্ঘটনা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সতর্কতা না থাকা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাব প্রায়শই এমন মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পর্যাপ্ত সিগন্যাল, ট্রাফিক চেকপয়েন্ট এবং নিয়মিত সচেতনতা কর্মসূচি জরুরি।

এই দুর্ঘটনা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়, দেশের ব্যস্ত মহাসড়কগুলিতে যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা কতটা প্রয়োজনীয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত