প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। আজ বুধবার রাতে প্রকাশ করা হবে ভর্তির চতুর্থ ও সর্বশেষ পর্যায়ের ফলাফল। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্মার্ট ভর্তির সিস্টেমের মাধ্যমে আজ রাত ৮টায় চতুর্থ পর্যায়ের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। যারা এই পর্যায়ে নির্বাচিত হবেন, তাদের ভর্তির নিশ্চায়ন করতে হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে। এরপর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর। এই ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে এবং নীতিমালা অনুযায়ী কোনোভাবেই ম্যানুয়ালি ভর্তি গ্রহণ করা যাবে না।
এর আগে ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা চতুর্থ পর্যায়ে ভর্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ পান। মূলত প্রথম তিন দফায় ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হলেও কিছু আসন খালি থেকে যাওয়ায় চতুর্থ ধাপে আবেদন গ্রহণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে বোর্ড আজ নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই অনলাইনভিত্তিক সিস্টেম চালু থাকায় এবারও সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এ ব্যবস্থার ফলে ভর্তিতে স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া জেলা, উপজেলা কিংবা গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও ঢাকাসহ দেশের নামী-দামি কলেজে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন অনলাইনের মাধ্যমে।
শিক্ষাবোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম তিন পর্যায়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বাচিত হলেও বিভিন্ন কারণে কিছু আসন খালি থেকে যায়। কেউ কেউ পছন্দের কলেজ না পাওয়ায় ভর্তি নিশ্চিত করেননি, আবার অনেকে বিদেশে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনায় ভর্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এসব আসন পূরণ করতেই চতুর্থ ও চূড়ান্ত পর্যায়ের আয়োজন করা হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ভর্তির নিশ্চায়ন এবং কলেজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বোর্ড বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন করবেন না, তারা আর ভর্তির সুযোগ পাবেন না। তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যেন তারা নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলেন।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, অনলাইনভিত্তিক এই ভর্তির প্রক্রিয়া বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অতীতে কলেজে ভর্তির মৌসুম এলেই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ থাকত না। কলেজের সামনে ভিড়, তালিকায় নাম উঠেছে কি না সেই দুশ্চিন্তা, সুপারিশ বা প্রভাব খাটানো—এসব সমস্যা একসময় নিয়মিত দৃশ্য ছিল। কিন্তু এখন অনলাইনভিত্তিক ভর্তির ফলে সে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে।
অভিভাবকরা বলছেন, এই ব্যবস্থা সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচাচ্ছে। আগে যেসব পরিবারকে বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে নামী কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য কষ্ট করতে হতো, এখন তারা ঘরে বসেই সেই সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে সারা দেশে ভর্তির প্রক্রিয়ায় একধরনের সমতা এসেছে।
তবে কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, অনলাইনভিত্তিক ভর্তিতে তাদের পছন্দের কলেজে সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বোর্ড নির্ধারিত মেধা তালিকা ও নীতিমালার ভিত্তিতেই ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে অনেকেই ইচ্ছাকৃত কলেজে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। শিক্ষা বোর্ড বলছে, এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রতিযোগিতামূলক এই ভর্তির ফলাফল নির্ধারণ হয়।
আজ রাত ৮টায় ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অনলাইনে তাদের ফলাফল দেখতে পারবেন। ফলাফল দেখতে গিয়ে সার্ভারে চাপের কারণে কিছু সমস্যা হতে পারে, তবে সে বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছে টেকনিক্যাল টিম। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনে ফলাফল দেখার সময় বাড়ানো হবে যাতে কেউ বঞ্চিত না হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চতুর্থ পর্যায়ের মাধ্যমে এবারের ভর্তি কার্যক্রম চূড়ান্ত হবে। এরপর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই যারা এখনো ভর্তি হতে পারেননি, তাদের জন্য এটি শেষ সুযোগ। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা দ্রুত তাদের ভর্তি নিশ্চিত করে নেয়।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির এই ভর্তির প্রক্রিয়া শেষ হলে শিক্ষার্থীরা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু করতে পারবেন। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নতুন ক্লাস শুরুর প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, প্রযুক্তিনির্ভর এই ভর্তি প্রক্রিয়া বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের প্রতীক। অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক হয়নি, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছে। তবে শিক্ষার্থীদের চাপ, হতাশা ও প্রতিযোগিতার বাস্তবতা সবসময়ই থেকে যাচ্ছে। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই আজ প্রকাশিত হবে একাদশ শ্রেণির ভর্তির চতুর্থ ও চূড়ান্ত পর্যায়ের ফলাফল, যা নির্ধারণ করবে হাজারো শিক্ষার্থীর একাডেমিক যাত্রার পরবর্তী ধাপ।