সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

দিনাজপুরের এএসপিকে এনসিপি নেতাদের উপহাস করার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ১১৯ বার
দিনাজপুরের এএসপিকে এনসিপি নেতাদের উপহাস করার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রকাশ: ১৭ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের সেনাবাহিনীর সাজোয়া যানে ওঠার ছবি নিয়ে ট্রল করার অভিযোগে দিনাজপুরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. মোসফেকুর রহমানের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে বুধবার রাতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে বিপ্লবী ছাত্র-জনতা। দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও করে তারা দাবিতে সরব হয়ে ওঠে—শুধু প্রত্যাহার নয়, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সন্ধ্যায়, যখন ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নেতা একরামুল হক আবির তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে অভিযোগ তুলে লেখেন, “এএসপি (ট্রাফিক) মুসফিক সাহেব গোপালগঞ্জে বিপ্লবীদের উপর হামলা নিয়ে ট্রল করেছেন। সবাই বড়মাঠে এসপি অফিসের সামনে চলে আসুন।” এরপরেই রাত ৮টার দিকে বিপ্লবী ছাত্র-জনতার একটি বিশাল মিছিল শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয় এবং ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করে।

রাত ৯টার দিকে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন সেখানে উপস্থিত হয়ে ছাত্র-জনতাকে জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যেই পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে এবং তাকে দিনাজপুর থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পুলিশ সুপারের এই ঘোষণায় ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কর্মসূচি থেকে পিছু হটেনি। তারা ঘোষণা দেয়, যতক্ষণ না ওই এএসপিকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, ততক্ষণ অবরোধ চলবে।

বিপ্লবী ছাত্র-জনতার একক দাবি ছিল—এই ঘটনায় শুধু চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এমন আচরণ ক্ষমার অযোগ্য। তারা মনে করে, এটি সরাসরি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ও বিদ্রূপ, যা মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরুদ্ধাচরণ। আন্দোলনকারীরা দাবি করে, সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় আশ্রয় নেয়া কোনো নাগরিক বা রাজনীতিবিদের ছবি নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে ট্রল করা রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার দায়িত্বশীলতার চরম লঙ্ঘন।

এক সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্রনেতা একরামুল হক আবির আবারো তার ফেসবুক পেজে লেখেন, “এসপি অফিস ঘেরাও করে রেখেছি আমরা। ২৪ ঘণ্টা ঘেরাও চলবে… এক দফা—এএসপিকে গ্রেফতার করতে হবে।” এর মধ্যেই শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনার পারদ। তবে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় পুরো এলাকা ঘিরে।

রাত ১০টার দিকে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে, অভিযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোসফেকুর রহমানকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিনাজপুর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করবেন।

তবে রাত গভীর হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আন্দোলনকারীরা রাতভর অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। দিনাজপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিতে পারে।

এদিকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিষয়টি ‘উপেক্ষাযোগ্য ব্যক্তিগত মতামত’ বলে উল্লেখ করা হলেও, বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এটি কোনো একক মত নয়—বরং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চলমান গণআন্দোলনের প্রতি বিদ্রুপমূলক আচরণেরই প্রতিফলন। যে কারণে তারা এর উপযুক্ত বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথাও ভাবছেন।

দিনাজপুরে রাতের ঘেরাও কর্মসূচি পরিণত হয়েছে প্রশাসনিক জবাবদিহিতার এক কঠিন পরীক্ষায়। এখন দেখার বিষয়—সরকার ও পুলিশ প্রশাসন এই সংকটের কী ধরনের সমাধান নিয়ে সামনে এগোয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত