“প্রকৃতির এই চরম রূপ—বৃষ্টি হোক বা শীত, বাংলাদেশ কি এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি?”

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৩২ বার

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের জলবায়ু যে দ্রুত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে, তার ইঙ্গিত বারবারই প্রকৃতি দিয়ে চলেছে। কিছু বছর আগেও যেখানে বর্ষা মানেই ছিল মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি—সেটি এখন একপ্রকার অনবরত অঝোর ধারা, যেন থামতেই চায় না। আবার শীতকাল এলেই দেখা যায়, একটানা হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা—যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও সহনশীল মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মৌসুমি চক্রের এই চরম রূপের প্রভাব পড়ছে কৃষি, জনস্বাস্থ্য, শহুরে জীবন ও জাতীয় অর্থনীতিতে।

বাংলাদেশে গত এক দশকের আবহাওয়ার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রকৃতি একদিকে তার স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলছে, অন্যদিকে সময়ের আগেই অত্যাচারী হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবেই এ চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

২০১৭ থেকে ২০২৫—এই আট বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টির হার এবং শীতকালীন ঠাণ্ডার তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। কিছু অঞ্চলে বর্ষাকালে প্রতি বছরই দেখা দিয়েছে একটানা ৭ থেকে ১০ দিনের টানা বৃষ্টি, যা অতীতে ছিল বিরল। শুধু শহর নয়, গ্রামীণ এলাকাও এতে বিপর্যস্ত হয়েছে। এই অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ফসলের ক্ষতি, ভূমিধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ধস নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শীতকালের অবস্থাও একইভাবে বদলে গেছে। বিশেষ করে ২০১৮, ২০২১ ও ২০২৩ সালে দেশের উত্তরে শৈত্যপ্রবাহ এতটাই তীব্র হয়েছিল যে, তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে—যা বাংলাদেশের জন্য একেবারেই অস্বাভাবিক। সবচেয়ে বড় কথা, এই শৈত্যপ্রবাহ দিনের পর দিন স্থায়ী হয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে স্তব্ধ করে দেয়।
মোঃ আজিজুর রহমান পরিচালক, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর তিনি বলেন “বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশ। গ্লোবাল ওয়ার্মিং, গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ, বনভূমি হ্রাস এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দেশের আঞ্চলিক আবহাওয়াতেও বড় ধরণের পরিবর্তন আসছে। এতে মৌসুমি চক্রের ভারসাম্য ভেঙে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “শীত হলে এখন অতিরিক্ত ঠাণ্ডা, বর্ষা হলে অতিবৃষ্টি—এগুলো জলবায়ু চক্রে বড় ধরণের পরিবর্তনের আলামত। ভবিষ্যতে এসব চরম আবহাওয়ার প্রকোপ আরও বাড়বে, যদি এখনই জলবায়ু অভিযোজন, বনায়ন ও গ্রিন ইকোনমি পরিকল্পনায় বাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।”

দেশজুড়ে এই চরম প্রকৃতির কারণে শুধু কৃষিকাজেই বিপর্যয় নেমে আসেনি, এর প্রভাব পড়েছে জনস্বাস্থ্যেও। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ঠাণ্ডাজনিত অসুখ, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। শহরে দেখা দিচ্ছে মশাবাহিত রোগ, আবার জলাবদ্ধতার কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও ভেঙে পড়ছে।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ এই প্রকৃতির আচরণে এক প্রকার আতঙ্কিত। পঞ্চগড়ের কৃষক আমিনুল হক বলেন, “আগে যেমন বুঝতাম কখন বৃষ্টি হবে, কখন রোদ—এখন সেটা আগেভাগে বোঝা যায় না। ধান রোপণের সময় বৃষ্টি হয় না, আবার কাটা শুরু করলেই ঝড় আর টানা বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়।”

এই বাস্তবতায় এখন সময় এসেছে—জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু পরিবেশগত নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করার। কারণ, প্রকৃতি যে বার্তা দিচ্ছে—তা আর অবহেলা করার সময় নেই।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত