প্রকাশ: ২৪ জুলাই ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি আবারও শিরোনামে—তবে এবার মাঠের ঝলমলে পারফরম্যান্স নয়, বরং এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে ঘিরে। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) মর্যাদাপূর্ণ অল-স্টার ম্যাচে অংশ না নেয়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছেন ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মেসি। মেসির পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন তার দীর্ঘদিনের ক্লাব সতীর্থ জর্দি আলবাও। দুজনেই ম্যাচ থেকে বিরত থাকায় বিষয়টি এখন এক গম্ভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে এমএলএস অঙ্গনে।
এমএলএস অল স্টারস বনাম মেক্সিকোর লিগা এমএক্স অল স্টারসের ম্যাচটি বহু প্রতীক্ষিত একটি ফুটবলীয় অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে, যা ঘিরে থাকে কোটি ভক্তের উৎসাহ ও আগ্রহ। এবারের ম্যাচটিতে এমএলএস অল স্টারস ৩-১ গোলে জয়লাভ করলেও আলোচনার কেন্দ্রে থেকে গেছেন খেলেননি এমন একজন—মেসি।
ম্যাচে না খেলার ঘোষণা আগেভাগেই পাঠিয়েছিল ইন্টার মায়ামি কর্তৃপক্ষ। তারা লিগ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল যে, মেসি এবং আলবা উভয়েই এই ম্যাচে অংশগ্রহণ করবেন না। কিন্তু লিগ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, খেলোয়াড় অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে স্বীকৃত চোট কিংবা প্রমাণিত চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়া কোনো অজুহাত গৃহীত হয় না। আর এখানেই শুরু হয়েছে বিতর্কের বিস্তার।
এমএলএসের নিয়ম অনুযায়ী, অল স্টার ম্যাচে অকারণে অনুপস্থিত থাকলে খেলোয়াড়দের উপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে এমএলএস কমিশনার ডন গারবার বলেছেন, “এটি স্পর্শকাতর একটি বিষয় এবং আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। বিষয়টি বিশ্লেষণ করে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। কেউ কেউ বলছেন, মেসি হয়তো ক্লাবের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য বিশ্রাম নিয়েছেন। অন্যদিকে অনেকেই একে ভক্তদের প্রতি অবজ্ঞা বলে মন্তব্য করছেন, যারা শুধুমাত্র তাকে মাঠে দেখার আশায় টিকিট কিনেছিলেন এবং হাজারো কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন।
অবশ্য মাঠে মেসির পারফরম্যান্সে কোনো প্রশ্ন তোলা যাচ্ছে না। চলতি এমএলএস মৌসুমে তিনি ১৮টি গোল করে যৌথভাবে শীর্ষ গোলদাতার অবস্থানে রয়েছেন। তার দুর্দান্ত ফর্ম দল ইন্টার মায়ামিকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তবুও এই অনুপস্থিতির বিষয়টি তার জনপ্রিয়তা এবং মাঠের বাইরের ভাবমূর্তিতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রসঙ্গত, গত বছরও চোটের কারণে মেসি অল-স্টার ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি। তবে এবারের মতো অনির্ধারিত ও রহস্যাবৃত অনুপস্থিতির ঘটনা তাকে এবার এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। মেসির ভবিষ্যৎ ম্যাচে নিষিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা এখন এমএলএস কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।
ফুটবলবিশ্বের এক অবিসংবাদিত নায়ক লিওনেল মেসি এই মুহূর্তে যেমন আলোচিত, তেমনি বিতর্কিতও। বিশ্বজুড়ে তার ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—তিনি আবার কবে মাঠে ফিরবেন এবং এই নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা শেষপর্যন্ত বাস্তব হয়ে ওঠে কিনা।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন