সর্বশেষ :
ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নিয়ে দুদুর বিস্ফোরক ভাষ্য ডায়াবেটিস নেই তবুও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি? যুক্তরাজ্যে মিলল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল কপি পেঁয়াজ উৎপাদনে রেকর্ড, তবুও কেন আমদানির চাপে কৃষক? সিলেটের সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার ৮৮ বছর পর নকআউটে জয়: ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিমান অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা: সাংবাদিক দেখেই দৌড় চিকিৎসকের বিশ্বমঞ্চে চুয়েট শিক্ষার্থীদের সাফল্য: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল ৪০ কোটি টাকায় ডমিনেজ স্টিল কিনছে আকিজ রিসোর্সেস

ডিএমপির ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার
ডিএমপির ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল

প্রকাশ: ৩ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাংগঠনিক কাঠামোতে গতিশীলতা আনার লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দিয়ে তাদের কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দফতর ও প্রশাসন) মোহাম্মদ সারোয়ার আলমের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই রদবদলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সময়ের প্রয়োজনে এমন প্রশাসনিক পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হয়। নতুন আদেশে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দ্রুত নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা এই দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের আওতায় বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করা হয়েছে। মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এস এম মিজানুর রহমানকে সরিয়ে আইসিটি বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। একইসাথে গুলশান বিভাগের সেকেন্ড ইন কমান্ড বা ২ আইসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. আল আমিন হোসাইনকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা-রমনা বিভাগে রমনা জোনাল টিমের দায়িত্ব দিয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা নজরদারি ও কৌশলগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই স্থানান্তরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এছাড়া লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবু সাঈদকে গোয়েন্দা-তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনাল টিমে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ দমন ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে তেজগাঁও এলাকা পুলিশের জন্য বেশ সংবেদনশীল একটি জোন হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এস. এ. এম. ফজলে-ই-খুদাকে গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগে পশ্চিম জোনাল টিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মিরপুরের মতো জনবহুল এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এবং মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই রদবদল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিএমপির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বিভাগে বাজেট সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সজল হোসেনকে কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে অর্থাৎ সিটিটিসিতে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিটিটিসি ঢাকা পুলিশের একটি বিশেষায়িত শাখা, যা মূলত দেশের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে সামনের সারিতে কাজ করে থাকে। সজল হোসেনের মতো অভিজ্ঞ কর্মকর্তার এই বিভাগে যোগ দেওয়া গোয়েন্দা তৎপরতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া সহকারী পুলিশ কমিশনার পর্যায়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে; ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে কর্মরত জাহাঙ্গীর ফেরদৌসকে ডিএমপির ট্রেনিং ও এফঅ্যান্ডডি বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে, যা পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

পুলিশের মতো একটি শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও দায়িত্ব বন্টন মূলত জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনজীবনের শৃঙ্খলা রক্ষার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। মহানগর পুলিশের প্রতিটি জোন বা বিভাগের গুরুত্ব ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির হয়। কোনো কোনো বিভাগ মূলত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে, আবার কোনো বিভাগ সরাসরি অপরাধ দমন বা গোয়েন্দা নজরদারিতে গুরুত্ব দেয়। যখন একজন কর্মকর্তাকে দীর্ঘসময় এক জায়গায় কাজ করতে হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রে কাজের গতানুগতিকতা চলে আসে। এই গতানুগতিকতা ভেঙে নতুন কর্মস্থল ও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করলে কর্মকর্তার কার্যক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স সবসময়ই এমন রদবদলকে জনসেবার মান উন্নয়নের একটি কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে।

কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে পদায়নের এই প্রক্রিয়াটি মূলত ঢাকা মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও বেশি আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর করার একটি অংশ। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, তথ্য যাচাই, সন্ত্রাস দমন ও অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার জন্য যে ধরনের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন, সেই কথা মাথায় রেখেই কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিভাগে সমন্বয় করা হয়েছে। পুলিশ প্রধানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় গৃহীত এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো ঢাকা মহানগরীর অপরাধ চিত্র বদলে দিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তাদের অনেকেরই অতীত কর্মজীবন অত্যন্ত সফল ও প্রশংসনীয়। বিশেষ করে রমনা, তেজগাঁও বা মিরপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের যে ধরনের সতর্ক অবস্থানে থাকতে হয়, সেই দক্ষতা বা অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন তারা। মাঠ পর্যায়ের এই রদবদল সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। নাগরিকরা সবসময়ই আশা করেন যে, প্রতিটি থানার পাশাপাশি প্রতিটি গোয়েন্দা জোন এবং বিভাগীয় কর্মকর্তা তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে শতভাগ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবেন। দায়িত্ব বদল হওয়া মানেই কাজের ধারায় নতুন উদ্যম নিয়ে আসা, যা শেষ পর্যন্ত মহানগরবাসীর নিরাপত্তাকেই নিশ্চিত করে। ডিএমপি প্রশাসন জানিয়েছে যে, রদবদল হওয়া এই ছয় কর্মকর্তা তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন এবং আশা করা যাচ্ছে যে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তারা পুরোপুরি তাদের নতুন দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত