নতুন পে-স্কেল: দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত প্রস্তাব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৮ বার
নতুন পে-স্কেল: দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত প্রস্তাব

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সরকারি চাকরিজীবী লাখো মানুষের বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে গঠিত পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়। সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতনকাঠামো পুনর্নির্ধারণের এই উদ্যোগ দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ২১ এপ্রিল ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে এই কমিটি গত কয়েক মাস ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো বিশ্লেষণ করেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি ও কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটির সদস্যদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য একটি কার্যকর বেতনকাঠামো এখন সময়ের দাবি।

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে এই কমিশন দীর্ঘ ছয় মাস চুলচেরা বিশ্লেষণের পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদন বাস্তবায়নের পথ সুগম করতেই নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন এই কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। শুরুতে তিন অর্থবছরে এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের চিন্তা করা হলেও, বর্তমানে কর্মচারীদের আর্থিক চাপের কথা বিবেচনা করে তা দুই অর্থবছরে কার্যকর করার খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে।

কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে সদস্যদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এরপর পরবর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোর অধীনে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কার্যকর করা হবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপরেখা অনুমোদনের দায়িত্ব এখন মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে সব বিতর্কিত ও জটিল বিষয়ের সুরাহা করা হয়েছে, যার মধ্যে বিচার বিভাগের বেতনকাঠামো সংক্রান্ত কারিগরি সমস্যাটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিচার বিভাগের বেতনকাঠামোর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে একটি জটিল আইনি ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সোমবারের বৈঠকে সেই সমস্যার সমাধান হওয়ায় এখন আর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পথে বড় কোনো বাধা নেই। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে অর্থমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পেলেই মন্ত্রিসভার পরবর্তী এজেন্ডা হিসেবে এই বেতনকাঠামোর প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এটি ওঠার কথা রয়েছে, তবে প্রয়োজনে তার পরের বৈঠকেও বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাখা হতে পারে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ার পরই প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে আইনি ভেটিং বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং সম্পন্ন হলে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামোর সুফল ভোগ করতে পারবেন। সরকারি চাকরির বাজারে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের খবরটি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের স্বস্তি ও আশার আলো নিয়ে এসেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বেতনের এই সমন্বয় সরকারি কর্মীদের জন্য জীবনধারণের মান বজায় রাখতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি কেবল সরকারি বেতনভুক্তদের জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলবে। সরকারকে যেহেতু বড় অংকের রাজস্ব ব্যয় নির্বাহ করতে হবে, সেহেতু মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে কীভাবে এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা যায়, সেদিকেও নজর রয়েছে নীতিনির্ধারকদের। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি সিদ্ধান্তই নেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে, যাতে জাতীয় বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি না হয়।

পরিশেষে বলা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা এখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে। সচিবালয়ের করিডোর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি কার্যালয় পর্যন্ত সবখানেই এখন পে-স্কেলের এই চূড়ান্ত খবর নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল বিরাজ করছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে এবং সরকারি কর্মচারীরা তাদের বর্ধিত বেতন ও ভাতার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। একটি বাংলাদেশ অনলাইন এই পুরো প্রক্রিয়ার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং যেকোনো নতুন তথ্য পাওয়া মাত্রই তা দ্রুত আপনাদের সামনে তুলে ধরবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত