সোনারগাঁয়ে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির উদ্বোধন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার
সোনারগাঁয়ে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও নির্মল পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শুরু হয়েছে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ বা ‘এক শিক্ষার্থী এক গাছ’ কর্মসূচি। সোমবার সকালে সোনারগাঁও স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উপজেলার ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষে সোনারগাঁও পৌরসভা ও উপজেলা কৃষি অফিসের যৌথ উদ্যোগে গ্রহণ করা এই মহতী উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। তার হাত থেকে গাছের চারা গ্রহণ করার সময় শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল একরাশ আনন্দ আর দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় মোট ১৯ হাজার ৩২০টি চারা বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই বৃক্ষরোপণ অভিযানের সরাসরি অংশীদার হয়েছে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া প্রতিটি চারা ভবিষ্যতে বড় হয়ে অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ করবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দুর্গ হিসেবে কাজ করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, বর্তমান বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার একমাত্র প্রতিকার হলো বৃক্ষরোপণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ লাখ গাছ রোপণের যে বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, এটি তারই একটি অংশ। তিনি আরও জানান যে, শুধুমাত্র সোনারগাঁ উপজেলাতেই দুই লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি কেবল গাছ লাগানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান। তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার নিজের লাগানো গাছটির নিয়মিত পরিচর্যা করার নির্দেশ দেন, যাতে প্রতিটি চারা একটি পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে রূপান্তরিত হতে পারে।

গাছ উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দারুণ এক উদ্দীপনা। অনেক শিক্ষার্থীই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, একটি করে গাছ পাওয়ার মাধ্যমে তাদের ওপর একটি বড় দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তারা বুঝেছে যে গাছ কেবল প্রকৃতির শোভা বাড়ায় না, বরং এটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন দেয়। পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে পেরে শিক্ষার্থীরা গর্বিত। তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছে যে, চারাগুলো রোপণের পাশাপাশি তারা সেগুলোর বড় হওয়ার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করবে এবং যত্ন নেবে। এমন সচেতনতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তার বক্তব্যে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেমের সংস্কৃতি গড়ে তোলা। গাছ লাগানো এখন আর কেবল শখের বিষয় নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। তিনি এই কর্মসূচির সার্বিক সফলতার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস ও পৌরসভাকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, একটি দেশের পরিবেশ রক্ষায় সেই দেশের জনসম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি জরুরি। সোনারগাঁয়ের এই মডেলটি সারা দেশের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, মো. আতাউর রহমান, নিজাম উদ্দিন, হাজী শাহজাহান মেম্বার এবং আব্দুর রহিম। এছাড়াও উপজেলার প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ারসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা সকলেই একমত পোষণ করেন যে, কেবল গাছ বিতরণ করলেই পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা যেহেতু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাই তাদের মাধ্যমেই এই বার্তা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বৃক্ষরোপণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি ইতিবাচক অভ্যাস যা বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাত্রার অংশ হওয়া উচিত। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শিক্ষার্থীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে এক সবুজ সোনারগাঁ গড়ে তুলবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে সোনারগাঁ উপজেলার স্কুল-কলেজগুলোতে বৃক্ষরোপণের একটি ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গাছ লাগানোর এই উৎসব কেবল একটি দিবসের আয়োজন হয়ে থাকবে না, বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় রূপ নেবে যা উপজেলার প্রতিটি প্রান্তে সবুজের সমারোহ ছড়িয়ে দেবে। ‘আসুন গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোনারগাঁয়ের তরুণ প্রজন্ম যে পথচলা শুরু করেছে, তা দেশের অন্যান্য এলাকার জন্য একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে থাকবে। একটি বাংলাদেশ অনলাইন এই মহতী কর্মসূচির ওপর নিয়মিত নজর রাখছে এবং আশা করছে আগামী দিনে সোনারগাঁ উপজেলাসহ পুরো দেশ সবুজে ভরে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত