প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সর্বজন গ্রহণযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজনে ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জনগণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, এবছর সরকারের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যার প্রথমটি হলো জাতীয় বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করা এবং দ্বিতীয়টি হলো স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যেই এই নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। সরকার এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিতর্কমুক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তিনি রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও কাজের ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মীর শাহে আলম নিজেকে ‘উন্নয়নপাগল মানুষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বগুড়া ও শিবগঞ্জের মানুষের সেবার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তার এলাকায় রাস্তাঘাট, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এবং আগামী দিনেও উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এলাকার মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি নিজে করেন। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্য পূরণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাবলী মেনে কাজ করে যাচ্ছেন।
সংলাপের একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণটি পরিষ্কার করেন। সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে আলোচিত তাদের ‘বন্ধুত্ব’ নিয়ে গুঞ্জনকে তিনি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু নই, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সাধারণ কর্মী মাত্র। তিনি তার কর্মজীবনের শুরুর দিকটা বর্ণনা করে বলেন, তারেক রহমান বড় হয়েছেন ঢাকায় এবং তার ছাত্রজীবনও কেটেছে রাজধানীতে। অন্যদিকে তার নিজের জন্ম, বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা সবকিছুই বগুড়া ও শিবগঞ্জে। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয়ের সূচনা হয় ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে, যখন তারেক রহমান বগুড়ায় সফর শুরু করেন এবং তিনি তখন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরবর্তীতে তিনি বিএনপির কর্মী হিসেবে একাধিকবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন এবং বগুড়া জেলায় দলীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। যেহেতু তারেক রহমানের পৈতৃক নিবাস বগুড়ায়, তাই রাজনৈতিক ও অঞ্চলগত পরিচয়ের সূত্র ধরেই তার সঙ্গে বিভিন্ন সময় দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে স্নেহ করেন। তবে তাদের বয়সের মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকার কারণে বন্ধুত্বের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন ও জানেন—এর বাইরে তাদের সম্পর্কে আর কোনো বিশেষ সমীকরণ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করে দেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তার এই মন্তব্য রাজনীতি সচেতন মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন সুষ্ঠু করা সরকারের জন্য কতটা সংবেদনশীল তা প্রতিমন্ত্রী খোলামেলা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরির ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
সংলাপে বিএসআরএফের সাংবাদিকরা প্রতিমন্ত্রীর কাছে নানা প্রশ্ন রাখেন, যার উত্তরে তিনি উন্নয়ন ও রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন জনপ্রতিনিধির বড় পরিচয় তার কাজের মাধ্যমে। তিনি দাবি করেন, তার এলাকার মানুষ তাকে যে বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়েছেন, তিনি তার প্রতিদান দিতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর স্নেহ ও নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, দলীয় শৃঙ্খলা মেনে সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে তিনি জনগণের সেবা করে যেতে চান। তার এই সরল স্বীকারোক্তি এবং চ্যালেঞ্জের কথাগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রীর এই সাহসী মন্তব্য সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন হতে পারে। তবে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বাস্তবে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। উন্নয়নের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মীর শাহে আলমের এই সংলাপ থেকে এটি স্পষ্ট যে, সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হবে।