প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যস্ততা এবং নানা প্রতিকূল রাজনৈতিক ও সামাজিক কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের ক্লান্তিকর দিনগুলোর ফাঁকে একটু প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট সময় কাটিয়ে আজ মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাজ্য সফর শেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। আজ ভোর পাঁচটা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে তাকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে। বিমানবন্দর চত্বরে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তার একান্ত শুভানুধ্যায়ীরা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মজীবন ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অবিরাম ব্যস্ততার মাঝে নাড়ির টানে এবং ব্যক্তিগত পারিবারিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবেই তিনি এই বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন। রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ একটি পদের দায়িত্বে থাকা যেকোনো শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বের জন্য ব্যক্তিগত জীবনের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবারকে সময় দেওয়া অত্যন্ত দূরূহ এক বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংসদের হুইপ এবং পরবর্তীতে চিফ হুইপের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ পদে আসীন থেকে তিনি সংসদীয় কার্যপ্রণালী সফলভাবে পরিচালনা করে আসছেন। দেশ ও জাতির স্বার্থে প্রতিদিন তাকে অসংখ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নথিপত্র পর্যালোচনা করতে হয়, যা তার দৈনন্দিন জীবনকে অত্যন্ত গতিশীল ও ক্লান্তিকর করে তোলে। এই একঘেয়েমি কাটাতে এবং পারিবারিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি অল্প কিছুদিনের জন্য যুক্তরাজ্য ভ্রমণের এই সুযোগটি গ্রহণ করেছিলেন।
গত ২৮ জুলাই তিনি অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সাধারণ প্রটোকল বজায় রেখে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সফরে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। যুক্তরাজ্যে কাটানো এই সপ্তাহজুড়ে তিনি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কোলাহল ও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে তার নিকটাত্মীয় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অত্যন্ত আনন্দঘন ও অর্থবহ সময় অতিবাহিত করেছেন। সেখানে তিনি ব্রিটিশ সংস্কৃতির নানা ঐতিহাসিক ও নান্দনিক দিক অবলোকন করার পাশাপাশি সেখানকার প্রবাসী বাঙালিদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বলে জানা গেছে। সুদূর প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশীদার হওয়া একজন জনপ্রতিনিধির জন্য সবসময়ই এক আবেগময় অভিজ্ঞতা। প্রবাসীরাও তাদের প্রিয় নেতার এই ব্যক্তিগত সফরে কাছে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে তার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন।
যুক্তরাজ্যের জীবনযাত্রা, সেখানকার সুশৃঙ্খল নাগরিক সুবিধা এবং উন্নত পরিবেশ পরিবারসহ উপভোগ করার মাধ্যমে তিনি তার মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে সক্ষম হয়েছেন। রাজনৈতিক ময়দানের তীব্র দাবদাহ ও প্রতিনিয়ত নানা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়ে এই সংক্ষিপ্ত সফরটি তার কর্মক্ষমতাকে আরও বেশি শানিত করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত জীবনের এই মুহূর্তগুলো কেবল তার নিজের প্রশান্তির জন্যই নয়, বরং মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়ে পুনরায় দেশের জনগণের সেবা করার জন্য নতুন শক্তি জোগায়।
আজ ভোরে ঢাকায় অবতরণ করার পর চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং সুস্থ শরীরে নিরাপদে দেশে ফিরে আসার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, প্রবাসে অবস্থানকালেও তিনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখেছিলেন এবং দেশবাসীর সুখ-দুঃখে মানসিকভাবে সবসময় পাশে ছিলেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রূপরেখা প্রণয়নে তার এই বিদেশ সফর পরবর্তী কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে আরও জানা গেছে যে, দেশে ফেরার পর তিনি স্বল্পকালীন একটি বিশ্রামের সময় পার করে খুব দ্রুতই তার নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমে যোগ দেবেন। সামনে জাতীয় সংসদের বহু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম, কমিটি মিটিং এবং প্রশাসনিক রূপরেখা সংক্রান্ত নানা কাজ অপেক্ষা করছে। চিফ হুইপের এই সফল প্রত্যাবর্তন এবং স্বদেশে পুনরায় কর্মমুখর হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।