এক্সিলারেট টার্মিনালে এলএনজি বন্ধ, বাড়ছে গ্যাস সংকট

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। পাইপলাইনে পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় বুধবার বিকেল থেকে টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এলএনজির তীব্র সংকটের কারণে বিকেল ৩টার দিকে এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়। এর ফলে দেশে চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত ২১ জুলাই একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টানা ২৫ দিন বন্ধ ছিল এক্সিলারেটের টার্মিনাল। প্রায় চার দিন আগে এটি আংশিকভাবে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। তবে এলএনজির মজুদ কমে আসায় গত সোমবার থেকেই সরবরাহ ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছিল। বুধবার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় টার্মিনালটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

পেট্রোবাংলার অধীন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) দেশে এলএনজি আমদানি তদারকি করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কম দামে এলএনজি সংগ্রহের লক্ষ্যে নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে চলতি মাসে চারটি এলএনজি কার্গো দেশে আসার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কোনো কার্গোই দেশে পৌঁছায়নি।

ফলে এক্সিলারেটের টার্মিনাল কারিগরিভাবে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা এলএনজি না থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস দিতে পারছে না।

মহেশখালীতে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট টার্মিনালের দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো দেশে আসার কথা থাকলেও সেটি সামিট টার্মিনালে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে এক্সিলারেট টার্মিনালের জন্য এলএনজি কার্গো আসতে ২৩ বা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সে ক্ষেত্রে আগামী কয়েকদিন এক্সিলারেট টার্মিনালটি পুরোপুরি বন্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এক্সিলারেট টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে জাতীয় গ্যাস সরবরাহে দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে যেখানে ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছিল, বুধবার তা কমে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে।

বর্তমানে সারা দেশে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন ইতোমধ্যে চাপের মুখে থাকায় নতুন করে সরবরাহ কমে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

এক্সিলারেট টার্মিনালের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর টার্মিনালটি প্রায় ২৫ দিন বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আংশিকভাবে সরবরাহ শুরু হলেও পর্যাপ্ত এলএনজি কার্গো না আসায় অল্প সময়ের মধ্যেই আবার সরবরাহ বন্ধ করতে হলো।

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, টার্মিনালের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে জাতীয় গ্রিডে এর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব নয়। নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় এক্সিলারেট টার্মিনালে দ্রুত এলএনজি সরবরাহ পুনরায় শুরু করা না গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গ্যাসনির্ভর খাতে সরবরাহ সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত