সংসদীয় দুই কমিটি থেকে বাদ গাজী নজরুল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার
সংসদীয় দুই কমিটি থেকে বাদ গাজী নজরুল

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দল থেকে বহিষ্কারের পর এবার সংসদীয় কমিটির সদস্যপদও হারালেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। জাতীয় সংসদে কমিটি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার তাঁর সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং একটি বিশেষ কমিটি থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদিত হয়। এর মধ্য দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় কমিটিতে থাকা দুটি দায়িত্বেরও অবসান ঘটে। তাঁর জায়গায় সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত গাজী নজরুল ইসলাম সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে বেশ আলোচনায় রয়েছেন। ব্যক্তিগত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী দলীয় তদন্তের ভিত্তিতে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হলেও সংসদীয় কমিটিতে তাঁর অবস্থান নিয়ে বৃহস্পতিবার কার্যকর সিদ্ধান্ত এল।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে গাজী নজরুল ইসলামের পরিবর্তে আবদুল ওয়ারেছকে সদস্য করা হয়েছে। একইভাবে বিশেষ কমিটিতে তাঁর জায়গায় নাজিবুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দুটি কমিটিতেই তাঁর সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ আর থাকল না।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা, বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং সরকারের কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারিতে এসব কমিটির ভূমিকা রয়েছে। ফলে কোনো সংসদ সদস্যের এসব কমিটিতে সদস্যপদ পাওয়া তাঁর সংসদীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

গাজী নজরুল ইসলামকে দুটি কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের আরও একটি পরিবর্তন স্পষ্ট হলো। দলীয় পদ হারানোর পর সংসদীয় কমিটির দায়িত্বও হারালেন তিনি। যদিও কমিটি থেকে বাদ পড়ার ফলে তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে মূল দায়িত্ব সরাসরি শেষ হচ্ছে না, তবে সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণের পরিধি কমে গেল।

এর আগে জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। কারণ, তিনি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলীয় অবস্থানের পরিবর্তনের পর তাঁর সংসদীয় অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির কথা বলা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার শুধু গাজী নজরুল ইসলামকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়াই নয়, সংসদের আরও কয়েকটি কমিটিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিতে নতুন সভাপতি ও সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কার্যক্রমে কমিটিগুলোর দায়িত্বে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আব্দুল মঈন খান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই কমিটির সভাপতির পদটি শূন্য হয়। পরে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে ওই কমিটির সভাপতি করা হয়।

এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আন্দালিব রহমান পার্থ আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য নওশাদ জমির।

সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরিবর্তে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতেও পরিবর্তন এসেছে। বিরোধী দলের সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের পরিবর্তে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতেও আরও পরিবর্তন হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের পরিবর্তে জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজীকে সদস্য করা হয়েছে। ফলে কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্বেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের ধারাবাহিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে প্রবেশের পর দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই সংসদ সদস্য এখন দলীয় বহিষ্কার এবং সংসদীয় কমিটির সদস্যপদ হারানোর পর নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন।

তবে সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর পরবর্তী অবস্থান এবং সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা কী হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার ওপর। একই সঙ্গে তাঁর বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও সংসদ কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, বৃহস্পতিবারের কমিটি পুনর্গঠন শুধু সংসদের নিয়মিত প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে এটি তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটের আরেকটি দৃশ্যমান পরিণতি। দলীয় পরিচয় হারানোর পর এবার সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকেও বাদ পড়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত