হরমুজে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলা ভাবছে ট্রাম্প

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ঠেকাতে সীমিত আকারে হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ইরান যাতে তেলবাহী জাহাজ, মার্কিন নৌযান ও সামরিক বিমানের ওপর হামলার সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে, মূলত সে লক্ষ্যেই এ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক গোলাগুলির আগে ট্রাম্প এতে অনুমোদন দেননি। নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় এখন তিনি পরিকল্পনাটি অনুমোদন করতে পারেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পরিকল্পনাটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইরানের হামলায় তেলবাহী জাহাজ, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো। তিনি এর উদ্দেশ্যকে রূপক অর্থে ‘ঘাস ছাঁটাই’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে এমন পর্যায়ে রাখা, যাতে দেশটি আবার হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে না পারে।

আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা সব ধরনের বিকল্প এখনো খোলা রয়েছে। ইরান চুক্তি করতে চাইলেও আলোচনায় তারা বারবার দেরি করছে এবং কম প্রস্তাব নিয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত দুই মাসে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার অভিযান, সমুদ্রপথ থেকে মাইন অপসারণ এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলে সহায়তার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী জলপথটির বড় অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর ফলে তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা কিছুটা সীমিত হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও তেল রপ্তানিও বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এতে ইরানের সক্ষমতা কমেছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজগুলোকে আরও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা বাড়াতে ইরান রাডার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও এই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের দিকে ইরান একটি বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটি যুদ্ধবিমানটির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি এবং কোনো তাৎক্ষণিক হুমকিও তৈরি হয়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ঘটনাটি ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার ইঙ্গিত হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেন্টকম প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছে, উপসাগর থেকে প্রতিদিন কয়েক ডজন তেলবাহী জাহাজকে তুলনামূলক নিরাপদে বের করে আনতে হলে ইরানের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে সামরিক হামলা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে।

হেগসেথ এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করে কয়েক দিন আগে তা হোয়াইট হাউসে পাঠিয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস এ ধরনের হামলার অনুমোদন না দেওয়ার দিকেই বেশি ঝুঁকে ছিল। কারণ ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে।

পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে রোববার জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকজন সেনাকে হামলা করার পর এই পাল্টা হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওই ইরানি সেনারা হরমুজ প্রণালিতে রকেটসহ মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এর পরদিন সোমবার সকালে ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের হামলার জবাব যুক্তরাষ্ট্র দেবে এবং দেশটিকে ‘কঠোরভাবে আঘাত’ করা হবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে সেখানে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাই বাড়বে না, বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা ঠেকানো এবং একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা, যা হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে। ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সীমিত হামলার অনুমোদন দেবেন কি না, সেটিই এখন পরিস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত