চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণসহ যাত্রী আটক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ বার
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণসহ যাত্রী আটক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসহ এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে মোহাম্মদ হাসান মুরাদ নামে ওই যাত্রীর কাছ থেকে মোট ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৪১ হাজার ৫৫৫ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বর্ণগুলো স্ক্যানার বা সাধারণ তল্লাশি এড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যাগের ভেতরে বিশেষ কৌশলে স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। তবে বিমানবন্দরে যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে নজরদারিতে নেওয়া হয়। পরে বিস্তারিত তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণের চালানটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ওমানের মাসকাট থেকে সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ওই যাত্রী। বিমানবন্দরে অবতরণের পর তার চলাফেরা ও আচরণে সন্দেহ তৈরি হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিমানবন্দর টিমের উপস্থিতিতে তাকে কাস্টমস হলরুমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশির সময় প্রথমে তার ব্যাগেজ পরীক্ষা করা হয়। সেখানে বিশেষভাবে মোড়ানো কিছু বস্তু কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে সেগুলো খুলে দেখা হলে স্বর্ণের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বর্ণগুলো স্কচটেপ দিয়ে পেস্ট করে এমনভাবে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে সাধারণভাবে ব্যাগেজের ভেতরে তা সহজে শনাক্ত করা না যায়।

পরবর্তীতে কারিগরের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা ৪২৫ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণপিণ্ড উদ্ধার করা হয়। এর পাশাপাশি ওই যাত্রীর পরনের প্যান্টের পকেটেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের ৩৫টি স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। এসব অলংকারের মোট ওজন ১০৬ গ্রাম বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণপিণ্ড ও পকেট থেকে পাওয়া অলংকার মিলিয়ে মোট ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল ঘটনাটির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৪১ হাজার ৫৫৫ টাকা। তবে এই স্বর্ণ কীভাবে দেশে আনা হয়েছে, এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং এর বৈধ কাগজপত্র ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় যাত্রীদের সঙ্গে স্বর্ণ বা স্বর্ণালংকার আনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সীমা রয়েছে। নির্ধারিত নিয়মের বাইরে স্বর্ণ বহন করলে তা কাস্টমস আইনের আওতায় আসে। তাই বিদেশফেরত যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে ব্যাগেজ ও বহন করা সামগ্রী পরীক্ষা করে থাকেন। সন্দেহজনক আচরণ বা নথিপত্রে অসংগতি পাওয়া গেলে অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হয়।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এখান থেকে নিয়মিত বিমান যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এই বিমানবন্দর দিয়ে দেশে আসা-যাওয়া করেন। ফলে প্রবাসীদের যাতায়াতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও বিমানবন্দরটির গুরুত্ব রয়েছে।

বিদেশ থেকে ফেরার সময় স্বর্ণ বহনের ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। বিভিন্ন সময় বিমানবন্দরে যাত্রীদের ব্যাগেজ, শরীরের বিভিন্ন অংশ কিংবা পরনের পোশাকে লুকিয়ে স্বর্ণ আনার চেষ্টা শনাক্ত হয়েছে। কখনো স্বর্ণালংকারের আকারে, কখনো বার বা পিণ্ড আকারে আবার কখনো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে এসব মূল্যবান ধাতু বহনের চেষ্টা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও কাস্টমস সংস্থাগুলোও এ ধরনের চালান ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করে থাকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতরা বিভিন্ন সময় তল্লাশি ও স্ক্যানিং এড়াতে নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে থাকে। ব্যাগের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে স্বর্ণ লুকিয়ে রাখা, কাপড় বা অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে মিশিয়ে বহন করা কিংবা টেপ দিয়ে বিশেষভাবে মোড়ানোর মতো কৌশলও দেখা যায়। ফলে বিমানবন্দরে শুধু যাত্রীর ব্যাগেজ স্ক্যান করাই নয়, সন্দেহজনক ক্ষেত্রে আচরণগত বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

এই ঘটনার ক্ষেত্রেও যাত্রীর আচরণ প্রথমে কর্মকর্তাদের সন্দেহের কারণ হয়। এরপর নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তল্লাশি চালাতে গিয়ে ব্যাগের ভেতরে লুকানো স্বর্ণ এবং পকেটে থাকা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। এতে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত নজরদারি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কোনো যাত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণ উদ্ধার হওয়ার পর সেটি চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত কি না, কিংবা তিনি নিজে এর সঙ্গে কতটা সম্পৃক্ত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাও তদন্ত ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা সাধারণ যাত্রীদেরও বিদেশ থেকে স্বর্ণ বা মূল্যবান সামগ্রী আনার ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ নির্ধারিত সীমা ও বিধিবিধান না মেনে স্বর্ণ বহন করলে বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ, পণ্য জব্দ কিংবা আইনগত জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে অন্যের দেওয়া কোনো প্যাকেট বা ব্যাগে কী রয়েছে না জেনে তা বহন করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক এই ঘটনায় ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধারের বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক যাত্রাপথে কাস্টমস নজরদারির গুরুত্ব সামনে এনেছে। একদিকে চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর তল্লাশি প্রয়োজন, অন্যদিকে বৈধভাবে বিদেশ থেকে দেশে ফেরা যাত্রীদের জন্য নিয়মকানুন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকাও জরুরি। নিয়ম মেনে ভ্রমণ ও পণ্য বহনের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী তদন্তে স্বর্ণের উৎস, দেশে আনার উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় আরও স্পষ্ট হতে পারে। আপাতত উদ্ধার করা ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে এবং আটক যাত্রীকে ঘিরে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত