চাঁপাইনবাবগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়ের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৭ বার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়ের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ভোরে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মা ও মেয়ে। নেজামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এই দুর্ঘটনায় পরিবার ও গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহতরা হলেন মো. আলমগীরের স্ত্রী হাওয়া বেগম (৪২) এবং তাদের মেয়ে আয়েশা বেগম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীরের বাড়িতে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা চার্জে লাগানো ছিল। ভোরে হাওয়া বেগম অটোরিকশায় রাখা একটি ব্যাগ নিতে গেলে হঠাৎ বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মেয়ে আয়েশা বেগম, কিন্তু তিনিও বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। মুহূর্তেই এক পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে নেমে আসে নিস্তব্ধতা।

নাচোল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এলাকার লোকজন জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা শুধু পরিবার নয়, পুরো গ্রামবাসীকেও শোকাহত করেছে। সকালের নীরবতা ভেঙে হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণপাড়ায়। প্রতিবেশীরা জানান, হাওয়া বেগম ও তার মেয়ে ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে ও মিশুক স্বভাবের মানুষ। তাদের মৃত্যুতে সমাজের এক বড় ক্ষতি হলো।

গ্রামীণ জনপদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কিন্তু বৈদ্যুতিক চার্জ দেওয়ার সময় সতর্কতার অভাব ও মানহীন সংযোগ অনেক সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন, সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের যানবাহন চার্জ দেওয়া বিপজ্জনক। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই সতর্কতা মানা হয় না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ দুর্ঘটনা আবারও সেই ঝুঁকির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। মুহূর্তের অবহেলায় দুটি প্রাণ ঝরে গেল, ভেঙে গেল একটি পরিবার। স্থানীয়রা মনে করছেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এ ধরনের মৃত্যুরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

মা ও মেয়ের এই অকাল মৃত্যুতে সমবেদনার বন্যা বইছে দক্ষিণপাড়ায়। গ্রামের মানুষজন একত্রিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শোকাহত আলমগীর অসহনীয় বেদনায় ভেঙে পড়েছেন। এই ঘটনার পর এলাকায় কেবল একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—কিছুটা সচেতনতা থাকলে কি এ দুর্ঘটনা ঠেকানো যেত?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত