প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত আবারও আলোচনায় এসেছে একের পর এক ঘটনার কারণে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হওয়া এক বাংলাদেশি যুবককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে ফেরত আনা হয়েছে। একই দিন বিকালে মহেশপুরের অন্য একটি সীমান্ত এলাকা থেকে আরও ছয়জন বাংলাদেশিকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবপাচার এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের ঝুঁকি নতুন করে সামনে এসেছে।
বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার দুপুরে ভারতের জোড়পাড়া বিএসএফ ক্যাম্প থেকে খবর আসে যে, বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা রুপচান খান (২৫) অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় তাদের হাতে আটক হয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মহেশপুরের পলিয়ানপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকের মাধ্যমে ৬০/৩১ আর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায় রুপচান খানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। বর্তমানে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহেশপুর থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।
অন্যদিকে একই দিন বিকাল ৫টার দিকে মহেশপুরের বাঘাডাংগা সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় বিজিবি আরও ছয়জন বাংলাদেশিকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দুই পুরুষ, এক নারী ও তিন শিশু। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। আটক ব্যক্তিদেরও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর মহেশপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মহেশপুর-৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব এবং উন্নত জীবিকার আশায় বহু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। অনেক সময় তারা মানবপাচার চক্রের খপ্পরে পড়েন এবং নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। এ কারণে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মানবপাচার রোধে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিয়মিত টহল ও পতাকা বৈঠক উভয় দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হলেও সীমান্ত অতিক্রমের প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সীমান্তবর্তী জনগণের অনিশ্চিত জীবনধারা অন্যতম কারণ।