প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের চলমান যুগপৎ আন্দোলনের পঞ্চম ধাপের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। দলটির দাবি, দেশের রাজনীতিতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যা প্রশংসনীয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজন অত্যন্ত জরুরি। কারণ, দেশের সাধারণ মানুষ মনে করছেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ ব্যতীত সংবিধান সংশোধনের বৈধতা ও টেকসই ভিত্তি প্রতিষ্ঠা পাবে না। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নভেম্বরের মধ্যে গণভোট সম্পন্ন হওয়া উচিত।
স্মারকলিপিতে পিআর পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন উল্লেখ করেছে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ভোটকেন্দ্র দখল রোধ, কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করা, ভোটের অনিয়ম ও অপতৎপরতা প্রতিরোধ করা এবং দক্ষ আইনপ্রণেতা তৈরি করার জন্য পিআর পদ্ধতি অপরিহার্য।
এছাড়া সংশোধিত গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিষয়ে দলটি জানিয়েছে, সরকারের সংশোধিত পদক্ষেপের মধ্যে রাজনৈতিক দলের কিছু পরিবর্তনের দাবি থাকলেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অনেক রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, নভেম্বর মাসের গণভোট এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। দলের দাবির প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, গবেষক ও শিক্ষাবিদসহ সচেতন নাগরিক সমাজ সমর্থন জানাচ্ছে। সাধারণ জনগণও এসব দাবির প্রতি সমর্থন দেখিয়ে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ইসলামী আন্দোলন আয়োজনের স্বারকলিপি জমায়েতের সভাপতিত্ব করেন যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতেয়াজ আলম। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন প্রমুখ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো গ্রহণ করা হবে। তারা মনে করেন, গণভোট আয়োজন দেশের জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। দলটি নির্বাচনী কমিশনকে আহ্বান জানিয়েছে, দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গণভোটের আয়োজন অবিলম্বে সম্পন্ন করতে হবে।
দলের নেতারা আরও জানান, ৫ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হল: সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের নিশ্চয়তা, ভোটকেন্দ্রে অশান্তি ও অনিয়ম প্রতিরোধ, কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করা এবং দক্ষ আইনপ্রণেতা তৈরির মাধ্যমে জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি। ইসলামী আন্দোলন এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং সংবিধান সংশোধনের কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানিয়েছেন, দেশের সাধারণ জনগণ ও নাগরিক সমাজের মধ্যে এই দাবির প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। তাদের মতে, নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজন না করলে সংবিধান সংশোধনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই দলটি দেশের ভোটার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে সচেষ্ট।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই আন্দোলন দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করছে। তারা মনে করেন, গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা সংবিধানে প্রতিফলিত হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য ও মতভেদ থাকলেও সাধারণ মানুষের মতামতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ রাজনীতির স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। দলটি মনে করে, গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচনের সমন্বিত আয়োজন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।