প্রকাশ: ২১ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) অবশেষে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি ও আসন বিন্যাস প্রকাশ করেছে। বহু প্রতীক্ষিত এই পরীক্ষাটি শুরু হচ্ছে আগামী ২৪ জুলাই থেকে। পিএসসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবশ্যিক বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা চলবে ৩ আগস্ট পর্যন্ত, আর পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হবে ১০ আগস্ট থেকে এবং তা চলবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত। আটটি বিভাগে ১৮টি কেন্দ্র ও ১০টি ভিন্ন কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
৪৬তম বিসিএস প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই নানা নাটকীয়তা ও বিলম্বের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, যেখানে অংশ নেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬১ জন পরীক্ষার্থী। মে মাসে প্রাথমিক ফলাফলে উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ৬৩৮ জন। তবে “বৈষম্য দূরীকরণ” ও ‘সামাজিক ন্যায়ের কথা’ বিবেচনায় রেখে পরে আরও ১০ হাজার ৭৫৯ জন প্রার্থীকে যোগ করে মোট উত্তীর্ণের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১ হাজার ৩৯৭ জনে।
প্রাথমিকভাবে গত বছরের আগস্টে লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরে লিখিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হলেও পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আবারো তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। একাধিক দফায় পরিবর্তনের পর এখন অবশেষে পিএসসি লিখিত পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করেছে।
পিএসসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে এবং সাড়ে ৯টার মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ সম্পন্ন করতে হবে। প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করা হবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে। মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে মোবাইল ফোন, ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ক্যালকুলেটর, ক্রেডিট কার্ড সদৃশ যেকোনো বস্তু, ব্যাগ, গহনা, এমনকি ব্রেসলেট পর্যন্ত পরীক্ষা করে তবেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।
কমিশন জানিয়েছে, পরীক্ষার হলে এসব নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি এমন কোনো সামগ্রী কারও কাছে পাওয়া গেলে তার প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কমিশনের যেকোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারানোর পাশাপাশি দণ্ডিত হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়াও, কোনো প্রার্থী শ্রবণ সমস্যাজনিত কারণে হিয়ারিং এইড ব্যবহার করতে চাইলে, তাকে আগে থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শপত্রসহ কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে। পরীক্ষার হলে কানের ওপরে কোনো আবরণ ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৪৬তম বিসিএস নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যেভাবে প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছিল, এবার তা কিছুটা হলেও নিরসনের পথে। পিএসসির তরফ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এবারের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং আর কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে আলাদা করে পরীক্ষাকেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হবে। পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পিএসসি।
এখন সব চোখ লিখিত পরীক্ষার দিকে। সারা দেশের হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন এখন জড়িয়ে আছে এই পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে। পিএসসি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে, তাহলে এটি হবে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি একটি জনবল নিয়োগ পরীক্ষার সফল পরিসমাপ্তি।